
জলঢাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা বৃদ্ধা নারীকে পিটিয়ে জখম ও স্বর্ণালঙ্কার লুট !
নীলফামারীর জলঢাকায় পৈত্রিক জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১০ মে বিকেলে উপজেলার তালুক শৌলমারী (বাঝুড়াপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় মর্জিনা বেগম (৪৮) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার প্রায় ১ লক্ষ টাকার গাছ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মণিকুল ইসলাম কর্তৃক জলঢাকা থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার তৈয়ব আলী (৫০) ও তার সঙ্গীরা মাণিকুলের পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। গত ১০ মে বিকেল ৫:৩০ টার দিকে তৈয়ব আলীর নেতৃত্বে ৬ জন নামীয় এবং আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি লাঠিসোটা, কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মণিকুলের বাঁশঝাড়ে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা বাগানের প্রায় ৭০-৮০টি বাঁশ এবং ২০টি সুপারি গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলে, যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাণিকুলের মা মোছাঃ মারুফা বেগম বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এসময় হামলাকারীরা তার কান থেকে ৬ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের দুল (যার মূল্য প্রায় ৬৫,০০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয়। এমনকি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত মারুফা বেগমকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় মণিকুল ইসলাম এলাকায় না থাকায় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।