
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসঃ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
সড়ক দুর্ঘটনা জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। প্রতিটি প্রাণহানি একটি অপূরণীয় ক্ষতি, প্রতিটি গুরুতর আহত মানুষ ও তাঁর পরিবারকে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা সচেতনতামূলক স্লোগানের দিন হতে পারে না। এ দিন হওয়া উচিত সড়কব্যবস্থা, আইন প্রয়োগ, যানবাহনের মান, চালকের প্রশিক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নতুন করে পর্যালোচনার উপলক্ষ।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়, একটি ব্যক্তিগত শোক কীভাবে জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। তাঁর মৃত্যুতে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।
২২ অক্টোবর জাহানারা কাঞ্চনের প্রয়াণদিবস। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে নিরাপদ সড়কের দাবিকে জনপরিসরে তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় দিনটি নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা’র ১৯৯৪ সাল থেকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। নিসচা’র দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিবসটি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। সরকারি নথিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণার উল্লেখ দিবসটির তাৎপর্য শুধু স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সড়কে নিহত ও আহত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান।
সড়ক দুর্ঘটনাকে প্রায়ই ‘দুর্ভাগ্য’ বলে পাশ কাটানো হয়। অথচ এর পেছনে থাকে চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, ক্লান্ত বা অদক্ষ চালক, অনিরাপদ যানবাহন, পথচারীর জন্য নিরাপদ পারাপারের অভাব, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বা নিরাপদ ব্যবস্থা পদ্ধতি এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে, মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল যেন মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতে পরিণত না হয়, সে জন্য পুরো পরিবহনব্যবস্থাকে নিরাপদ করে তুলতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু চালক বা পথচারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। যারা সড়ক পরিকল্পনা ও নির্মাণ করেন, যানবাহন তৈরি ও অনুমোদন করেন, গণপরিবহন পরিচালনা করেন, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করেন এবং দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা দেন সবারই দায়িত্ব আছে। চালককে আইন মানতে হবে, একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষের একটি ভুলের পরিণতি প্রাণহানি না হয়।
বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তার জন্য সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি। তবে আইন প্রণয়ন করলেই সড়ক নিরাপদ হয় না। আইনের কার্যকর প্রয়োগ, প্রয়োজনীয় বিধিমালা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সক্ষমতা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ আইন প্রয়োগে বৈষম্য, অনিয়ম বা দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থাকলে জনসচেতনতার বার্তাও দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার তদন্তে শুধু চালককে দায়ী করে থেমে গেলে চলবে না, সড়কের নকশা, যানবাহনের অবস্থা, পরিবহন প্রতিষ্ঠানের তদারকি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারসেবার ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি। ঢাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা দিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা অতিরিক্ত গতি, সিগন্যাল অমান্যসহ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তি কার্যকর হতে হলে ক্যামেরার তথ্য নির্ভুলভাবে যাচাই, জরিমানা ও আপিলের স্বচ্ছ পদ্ধতি এবং আইনভঙ্গের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। ক্যামেরা স্থাপন করাই যথেষ্ট নয়, এর তথ্য কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, আইন সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও প্রকাশ্য ও জবাবদিহিমূলক হওয়া চাই।
ঢাকার যানজট ও সড়কে চাপ কমাতে আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীর টার্মিনাল স্থানান্তরের বিষয়ে নির্দেশনা ও পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় যাত্রীদের সুবিধা, নিরাপদ ওঠানামা, শহরতলি থেকে নগরের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন-সংযোগ এবং আন্তজেলা ও নগর পরিবহনের সময়সূচি সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হলে টার্মিনাল স্থানান্তর শহরের ভেতরে দূরপাল্লার বাসের চলাচল ও যানজট কমাতে পারে, দুর্বল সংযোগব্যবস্থা থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কাও থাকবে। তাই উদ্যোগটির সঙ্গে গণপরিবহন, সংযোগসড়ক ও যাত্রীসেবার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা যুক্ত করা জরুরি।
সড়ক নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ রাস্তা ও সড়কপাশ, নিরাপদ গতি, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনার পর উন্নত সেবা সব ক্ষেত্রেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ফুটপাত, নিরাপদ পারাপার, সাইকেল চলাচলের জায়গা, বাসস্টপ, সড়কবাতি ও স্পষ্ট নির্দেশক থাকতে হবে। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও আবাসিক এলাকায় গতি কমানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। মহাসড়কে পথচারী ও ধীরগতির যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য আলাদা অবকাঠামো দরকার। পুরোনো সড়কের নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা করে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো সংশোধন করতে হবে।
নিরাপদ গতি নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ডের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, নিয়মিত টহল, কার্যকর জরিমানা এবং ধারাবাহিক আইন প্রয়োগ জরুরি। যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা যেন কাগজে আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। ত্রুটিপূর্ণ ব্রেক বা টায়ার, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই, নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চালকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাই ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পেশাদার চালকের কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তাও তদারক করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ক্লান্তি, মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় এসব বিষয়ে শিক্ষা ও আইন প্রয়োগ দুই-ই প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসাও সড়ক নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। জরুরি ফোনসেবা, অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নিকটবর্তী হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা এসবের সমন্বয় আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে পারে। মহাসড়ক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নেতৃত্ব দেওয়া, সংস্থাগুলোর কাজ সমন্বয় করা এবং অগ্রগতি পরিমাপ করা। পরিবহন, সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার, পুলিশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সিটি করপোরেশন, বীমা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব স্পষ্ট থাকতে হবে। কোন সংস্থা কী করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং ফলাফল কীভাবে যাচাই হবে তা নির্ধারণ করা জরুরি। সড়ক নিরাপত্তায় একটি সমন্বিত ডাটাসেল গড়ে তোলাও সময়ের দাবি। পুলিশ, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিএ, সড়ক কর্তৃপক্ষ ও বীমা প্রতিষ্ঠানের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা গেলে দুর্ঘটনার স্থান, সময়, কারণ ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া যাবে। প্রমাণভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে বাজেট ও অবকাঠামো বিনিয়োগ করলে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ আরও কার্যকর হবে।
অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সুইডেনের ‘ভিশন জিরো’ নীতি, নেদারল্যান্ডসের পথচারী ও সাইকেলবান্ধব অবকাঠামো এবং বিভিন্ন দেশের স্বয়ংক্রিয় গতি নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহন নিরাপত্তা পরীক্ষা দেখায় দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার, নিরাপদ নকশা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ন্যায়সংগত আইন প্রয়োগ একসঙ্গে কাজ করলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনঘনত্ব, সড়কের ধরন ও যানবাহনের বৈচিত্র্যের সঙ্গে মিলিয়ে গ্রহণ করতে হবে। সব সমাধানের জন্য বড় প্রকল্প দরকার হয় না, নিরাপদ পারাপার, গতি নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং চালকের বিশ্রাম নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপও জীবন বাঁচাতে পারে।
সড়ক নিরাপত্তা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। এসডিজি ৩.৬ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আঘাত কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এসডিজি ১১.২ নিরাপদ, সাশ্রয়ী, সহজপ্রাপ্য ও টেকসই পরিবহনব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেয়। জাতিসংঘের ২০২১-২০৩০ সড়ক নিরাপত্তা কর্মদশ’র লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আঘাত অন্তত অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি নিরাপদে স্কুল, কর্মস্থল, হাসপাতাল ও বাড়িতে পৌঁছানোর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অংশ।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে নিসচাসহ বিভিন্ন সংগঠন র্যালি, আলোচনা, সচেতনতামূলক প্রচার, কবর জিয়ারত এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এসব কর্মসূচি মানুষকে সড়ক নিরাপত্তার কথা মনে করিয়ে দেয় এবং আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে। কিন্তু দিবসটির প্রকৃত সার্থকতা হবে, যদি ২২ অক্টোবরের অঙ্গীকার সারা বছরের কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেয় আইনের প্রয়োগ হয়, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক সংশোধিত হয়, প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয় এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হয়।
সড়ক নিরাপত্তা রাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়, আবার নাগরিকের ওপরই সব দায় চাপিয়েও রাষ্ট্র দায়িত্ব এড়াতে পারে না। পরিবহনমালিক, শ্রমিক সংগঠন, চালক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, চিকিৎসক, গণমাধ্যম, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। চালককে নিয়ম মানতে হবে, পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে চালকের প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে এবং পথচারীর জন্য নিরাপদ ফুটপাত ও পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্ব হলো আইন প্রয়োগ, নিরাপদ অবকাঠামো, সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা এবং সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক, সড়ক দুর্ঘটনাকে নিয়তি বলে মেনে নেব না। ঝুঁকি চিহ্নিত করব, তথ্য প্রকাশ করব, আইন প্রয়োগ করব এবং প্রতিটি সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তাকে উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখব। সদিচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই সুস্পষ্ট দায়িত্ব, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, জবাবদিহি, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক সরকারি উদ্যোগ। সরকারের কাছে প্রত্যাশা, সড়ক নিরাপত্তার ঘোষিত অঙ্গীকারগুলোকে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ও দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দেওয়া হবে। রাষ্ট্রের নেতৃত্ব এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে নিরাপদ সড়ক গড়া সম্ভব। নিরাপদ সড়ক মানে নিরাপদ জীবন, আর প্রতিটি জীবন রক্ষার দায়িত্ব সবার। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা ।
লেখক পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (কৃষি) কেন্দ্রীয় কমিটি
যুগ্মমহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটি
ফোন: ০১৫৫২৬৩১১১৮, ০১৮৪২৬৩১১১৮
ইমেইল: lionganibabul@gmail.com