
আমি আবুল হাসনাত, পিতা- বাদশা মিয়া, গ্রাম- আলহরী খাগডাহর, উপজেলা- ত্রিশাল, জেলা- ময়মনসিংহ। গভীর দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে জানাচ্ছি যে, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘রংধনু (অনলাইন) টিভি’-র স্বত্বাধিকারী আনোয়ার জাহাঙ্গীর কর্তৃক আমার বিরুদ্ধে যে সংবাদটি প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উক্ত সংবাদে আমার ছবি ব্যবহার করে আমাকে মাদকসহ গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবতার সাথে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রকৃত ঘটনা ও আইনি ব্যাখ্যা:
প্রকৃতপক্ষে গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আমাকে কেবলমাত্র সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে এবং পরবর্তীতে প্রচলিত আইনের ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট মামলার মূল এজাহার, পুলিশ প্রতিবেদন বা অন্য কোনো নথিতে আমার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগের উল্লেখ নেই। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর বিজ্ঞ আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করে আমাকে দ্রুত জামিন প্রদান করেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ‘রংধনু (অনলাইন) টিভি’ কোনো প্রকার তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই আমার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রচার করেছে যে, আমি নাকি “১ কেজি গাঁজা এবং ১৩০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার” হয়েছি। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমন মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে আমাকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে সামাজিকভাবে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। অথচ আদালতের নথিপত্র ও প্রকৃত ঘটনার সাথে এই সংবাদের কোনো মিল নেই।
একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো যথাযথ তথ্য যাচাই করে সঠিক সংবাদ পরিবেশন করা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অনলাইন মাধ্যমটি সাংবাদিকতার নীতিমালা ও পেশাগত দায়িত্ববোধ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। যা শুধু অনৈতিকই নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন (সাইবার নিরাপত্তা আইন) অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ বলেও আমি মনে করি।
ক্ষয়ক্ষতি ও সামাজিক প্রভাব:
এই মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের কারণে আমি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে সমাজে সৎভাবে চলাফেরা করে যে সম্মান ও সুনাম অর্জন করেছি, তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আমি অযথা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। আমার পরিবারও এই ভিত্তিহীন সংবাদের কারণে মানসিকভাবে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা শুধু ব্যক্তিগত সম্মানহানিই নয়, বরং এটি সামাজিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি করে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
দাবি ও আহ্বান:
আমি এই ধরনের জঘন্য, নীতিবিবর্জিত ও হলুদ সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে অবিলম্বে উক্ত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহার করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
এছাড়াও আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, যারা সংবাদমাধ্যমকে অপব্যবহার করে নিরপরাধ মানুষকে সামাজিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের শিকার না হন।
নিবেদক
আবুল হাসনাত
পিতা: বাদশা মিয়া
গ্রাম: আলহরী খাগডাহর
উপজেলা: ত্রিশাল
জেলা: ময়মনসিংহ।