শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
২০০ বছরের বাসিয়া মেলা ‘বউ মেলা’ নয়! মেঘনায় ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার স্হানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে -জহির উদ্দিন স্বপন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা পুলিশের ডিআইজির বাড়িতে চলতো ডিজে পার্টি মাদক ও নারীসহ আটক ৮৪ গাইবান্ধায় ২ শিক্ষকে চলছে ৬ শ্রেণি, সংকটে খলিশার পটল প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘোড়াঘাটে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন সমাজ কল্যান মন্ত্রী ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন  পরিবার কল্যাণ এর পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও নানা দূর্নীতির অভিযোগ পাবনায় নেশার টাকা না পেয়ে মাকে জবাই করে হত্যা ॥ ছেলেকে আটক

জীবনের অন্ধকারে আলো: এক সংগ্রামী জীবনগাথা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪



গল্পে গল্পে জীবন কথা-২
জীবনের অন্ধকারে আলো: এক সংগ্রামী জীবনগাথা

একটি গ্রামের গরীব ঘরের কথা। যেখানে জন্ম নিয়েছিল সাত মেয়ে এবং এক ছেলে। পরিবারে বাবার অসুস্থতার কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল নাজুক। তারপর বাবা অকালে মারা যাওয়ার পর তাদের দুঃখ আরও বেড়ে যায়। বাড়ির বড় ছেলে ছিল, যে ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত ছিল। সেই ছেলে, যাকে আজকাল সবাই চেনে, জানে, তার জীবন সংগ্রাম ছিল অতি কঠিন, অতি নিষ্ঠুর।
তাকে কখনো কখনো নৌকা নিয়ে নদীতে কাজ করতে হতো, কখনো ইটভাটায় কাজ করতে, কখনো ইট ভাঙতে, মাটি কাটতে কিংবা চায়ের দোকানে কাজ করতে। ছোটবেলায়, এমন কোনো কাজ ছিল না, যা সে করেনি। টেলার গাড়ি টানা, টেলা বহন করা—সবই তার জন্য ছিল এক এক ধরনের পরীক্ষা। সে জানতো, জীবন তাকে দান করেছে সংগ্রাম করতে, আর কিছুই নয়। ধীরে ধীরে তার কাছে সবকিছুই যেন সাধারণ হয়ে উঠেছিল। অথচ, সে কখনোই আশা ছেড়ে দেয়নি। মনোবল ছিল, শক্তি ছিল, প্রতিভা ছিল। তার এই প্রতিভাকে অস্বীকার করার সাধ্যি ছিল না। গ্রামে গরীব হলেও তার মনে কখনোই গরীব হওয়ার তিক্ততা ছিল না। সে জানতো, কাজের মধ্যেই রয়েছে তার মুক্তির পথ। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ ছিল, কিন্তু গ্রামে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই অনেকটা হোঁচট খেতে খেতে, জীবন সংগ্রাম করতে করতে একসময় সে শহরে চলে আসে।
শহরে আসার পরও তার জীবন ছিল একদম আলাদা। শহরের মধ্যে অজানা অন্ধকারের মতো তার জীবন ছিল। রাতদিন একাকার হয়ে গিয়েছিল। অনাহারে কাটাতো রাত্রি। কোথায় খাবার মিলবে, কোথায় আশ্রয় পাওয়া যাবে—এইসব চিন্তা করতে করতে, শহরের প্রতিটি রাস্তায় কেটেছে তার জীবনের প্রথম দিনগুলো। কিন্তু এমন এক অন্ধকারের মধ্যেও তার মধ্যে আশা ছিল। কোথাও না কোথাও কিছু একটা ছিল, যা তাকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করতো। সে জানতো, একদিন কিছু একটা হবে। অথচ, শুরুর দিকে তার পক্ষে লেখালেখির জন্য সময় বের করা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু সংগ্রাম তার জীবনে কখনো থামেনি। নিজেকে নিয়েছিল অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ, কিন্তু তার লক্ষ্য একটাই ছিল—নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, পৃথিবীকে জানানো, তার ভিতরে থাকা জ্ঞানের খনি। ছোটবেলায় যে ছেলে কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত ছিল, সে এখন একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক। তার লেখালেখি, তার চিন্তা-ভাবনা, সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা—এগুলো সব কিছুই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আজ সে শহরের একজন বিখ্যাত লেখক। তার লেখার হাত, তার দৃষ্টিভঙ্গি, তার চিন্তার গভীরতা—এই সব কিছুই তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করেছে। তবে তার জীবন খুব সহজ ছিল না। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সহজ ছিল না। তার জীবন ছিল দুঃখ-কষ্টে ভরা, কিন্তু সে কখনোই পিছপা হয়নি। প্রতিটি বিপদকে সে জীবনের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তার জীবনের এই কঠিন সংগ্রাম মানুষকে প্রেরণা দেয়। তার মধ্যে ছিল এক ধরনের অদম্য শক্তি, যা তাকে জীবনের প্রতিটি কঠিন বাঁধা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আজ সে যখন তার পরিবারের কাছে ফিরে তাকায়, তখন তাকে আর সেই গরীব ছেলে মনে হয় না। সে এখন সমাজে একজন বড় নাম, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু তার সেই সংগ্রামী মানসিকতা আজও তার মধ্যে রয়েছে, এবং তার লেখা, তার চিন্তা, তার কর্ম—সবই মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতার প্রমাণ।
এই গল্পের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, জীবন কখনোই মসৃণ পথের মতো নয়। যতই সংগ্রাম হোক, যদি মনোবল শক্ত থাকে, তবে সফলতা একদিন আসবেই। তার কঠিন জীবন, তার বেদনা, তার প্রতিভা—সবই তার পরিচয়ের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। সে জানতো, জীবন যুদ্ধ করতে করতে একদিন আলোর দেখা মিলবে, আর সেটাই তাকে অর্জন করতে হবে। এটাই তার জীবনের গল্প—এক সংগ্রামী জীবন, এক কঠিন যুদ্ধ, এক বিজয়ের গাথা।
চলবে—-

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews