
রংপুরের তারাগঞ্জে এক কিশোরী প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করায় শিকলবন্দি করে রেখেছিল তার পরিবার। পরে প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে শিশু পূনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে কিশোরীর শ্বশুর মজনু মিয়া পুত্রবধূকে উদ্ধারের জন্য থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার মাছুয়াপাড়া গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাহাগিলী গ্রামের মনজু মিয়ার ছেলে মাহাবুব আলমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তিন মাস আগে পালিয়ে গিয়ে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকদিন পরে মাহাবুব তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরীকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়।এরপর থেকে স্বামীর বাড়িতে ওই কিশোরী সংসার করে আসছিল। পরবর্তীতে পরিবারের লোক তার প্রেমের সম্পর্কের বিয়ে মেনে নিয়েছেন এমন আশ্বাস দিলে ওই কিশোরী তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ সময় তার পরিবারের লোক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন যাতে ওই কিশোরী পালিয়ে যেতে না পারে। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে শিকলবন্দি অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধারের পর শিশু পূর্ণবাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিশোরীর শ্বশুর মজনু মিয়া বলেন, আমি যখন শুনেছি আমার ছেলে প্রেম করে বিয়ে করেছে তখন তাদের বিয়ে মেনে নিয়ে বাড়িতে আনি। পুত্রবধূর ছোট বোন ও তার দাদি আত্মীয়তা মেনে নিয়েই আমার বাড়িতে গিয়েছিল। এজন্য তারা আমার পুত্রবধূকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি তারা এ বিয়ে মেনে না নিয়ে আমার পুত্রবধূকে শিকলবন্দি করে রেখেছেন।কিশোরীর ভাই বলেন, ওই পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের কখনো মিলন হবে না। ওদের কিছুই নাই। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বলেন, আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর যৌথ অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, উদ্ধার কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাকে রংপুর সমন্বিত শিশু পূনবাসন কেন্দ্রে (বালিকা) পাঠানো হয়েছে।উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় শিকলবন্দী অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। কিশোরীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরবর্তী আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।