শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
স্হানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে -জহির উদ্দিন স্বপন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা পুলিশের ডিআইজির বাড়িতে চলতো ডিজে পার্টি মাদক ও নারীসহ আটক ৮৪ গাইবান্ধায় ২ শিক্ষকে চলছে ৬ শ্রেণি, সংকটে খলিশার পটল প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘোড়াঘাটে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন সমাজ কল্যান মন্ত্রী ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন  পরিবার কল্যাণ এর পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও নানা দূর্নীতির অভিযোগ পাবনায় নেশার টাকা না পেয়ে মাকে জবাই করে হত্যা ॥ ছেলেকে আটক পাবনার তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে মানববন্ধন

প্রাথমিকের প্রতিটি স্কুলকে ‘স্বায়ত্তশাসিত’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬



প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি ‘স্বায়ত্তশাসিত’ বা অটোনোমাস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক বিদ্যালয় চমৎকার কাজ করছে। যদি প্রতিটি বিদ্যালয় অটোনোমাস বডির মতো কাজ করতে পারে, পাশাপাশি যোগ্য প্রধান শিক্ষকগণ অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে এগোতে পারেন, তবে শিক্ষার মান আমূল বদলে যাবে।’

আজ রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশা-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় বাজেট ও ইনপুট দেবে।  পাশাপাশি একটি ‘তৃতীয় পক্ষ’ ডিজাইন করা হয়েছে যা পরিবীক্ষণ ইউনিট হিসেবে একাডেমিক অ্যাসেসমেন্ট করবে। এই ইউনিট শিক্ষার্থীদের অর্জন ও যোগ্যতা নিয়ে গবেষণা করে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।

শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে জেলা পর্যায়ে নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা প্রসঙ্গে ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায়। আমরা ডিজিটালাইজেশনের কথা বললেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ডেটা পাওয়া যায় না এবং প্রযুক্তির প্রয়োগে ফাঁকি রয়ে গেছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মানুষের জীবন সহজ ও স্মার্ট করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বছরে ৩৭ ধরনের অ-পেশাদার বা নন-প্রফেশনাল কাজ করেন। এতে একজন শিক্ষক মাসে গড়ে ২৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। এর ফলে ৯০ শতাংশ শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছেন না। আর ৮৫ শতাংশ শিক্ষক পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নিতে পারছেন না।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষকদের এই অ-পেশাদার কাজে ব্যবহারের ফলে বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রায় ১৯ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন টাকা সমমূল্যের শ্রমের অপচয় হচ্ছে, যার সুফল শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না। এমনকি ৯২ শতাংশের বেশি শিক্ষক অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিক ক্লান্তি বা ‘বার্নআউট’-এ ভুগছেন।

এসময় উপদেষ্টা আরও বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো- সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা, যাতে শিক্ষকদের শিক্ষার বাইরে অন্য কাজে ব্যবহার না করার জন্য একটি ইতিবাচক সামাজিক চাপ তৈরি হয়। তিনি ‘টিচিং আওয়ার প্রোটেকশন পলিসি’ প্রণয়ন এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী বা ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের ওপর জোর দেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং নেপ-এর মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।

 

সূ্ত্র : অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews