
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কলার ছড়ি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের পর এক হোটেল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারী) দুপুরে কালীগঞ্জ পৌর কার্যালয় সংলগ্ন সাবেক এমপি জিতু মিয়ার মার্কেটে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত লিটন চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালি (৫০) পৌরসভার চান্দাইয়া গ্রামের মৃত নির্মল চন্দ্র ঘোষের পুত্র। তিনি একজন হোটেল ব্যবসায়ী। থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার বালীগাঁও গ্রামের মৃত তারা মিয়ার পুত্র স্বপন মিয়া তার স্ত্রী মাজেদা ও পুত্র মাসুমকে নিয়ে হোটেলের পিছনে ভাড়া থাকেন। মার্কেট মালিকের জমিতে স্বপনের রোপনকৃত কলা বাগানের একটি ছড়ি গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারী) রাতে চুরি হয়। স্বপনের
স্ত্রী মাজেদা শনিবার সকালে কলার ছড়িটি হোটেলের কর্মচারীদের থাকার ঘরে খুঁজে পেয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে মাজেদা তার স্বামী ও পুত্রকে ডেকে আনলে তারা হোটেল কর্মচারী অন্তরকে মারধর করে। এসময় হোটেল মালিক লিটন চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালি অন্তরকে বাঁচাতে গেলে তারা তাকেও মারধর করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। হোটেল কর্মচারী জানায়, সকালে স্বপনের স্ত্রী মাজেদা নাস্তা নিতে হোটেলে এসে অপর এক কাস্টমারের সাথে হাসি তামাশায় লিপ্ত হলে আমরা তাকে নিষেধ করি। এতে তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে তার স্বামী ও পুত্রকে ডেকে এনে আমাদের উপর হামলা করে। এক পর্যায়ে আমাদের হোটেল মালিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। সাংবাদিকরা কলা চুরি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরান খান জানান, দুপুরে লিটন চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত পাই। নিহতের কপালে কাটা দাগ ও নাকে রক্ত জমাট ছিল। কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, কলার ছড়ি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় স্বপন, তার স্ত্রী মাজেদা ও পুত্র মাসুমকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের প্রতি ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।