মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নতুন দিগন্ত:  মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকীকে রাজকীয় বরণ!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নতুন দিগন্ত:  মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকীকে রাজকীয় বরণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা) এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ই আষাঢ় ১৪৩৩ (মঙ্গলবার) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে বিদায়ী মহাপরিচালককে (ডিজি) আনুষ্ঠানিক বিদায় এবং নবনিযুক্ত মহাপরিচালক, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী-কে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচালক ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২১ মে ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫-এর ধারা ৫(ক)(১) ও ৫(ক)(২) অনুযায়ী মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকীকে অন্যান্য পেশাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।
ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার অনন্য সমন্বয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শীর্ষ পদে মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকীর আগমনকে দেশের ইসলামী অঙ্গন এবং সাধারণ আলেম সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন। ধর্মীয় জ্ঞান, আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক বিচক্ষণতার এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ইসলামী অঙ্গনে বিশেষভাবে সমাদৃত। তিনি এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি একাধারে কওমি, আলিয়া ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়—তিন ধারাতেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন এবং কৃতিত্বের সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রেখেছেন। * শিক্ষাজীবন: তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং ভারতের প্রসিদ্ধ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে আলিয়া মাদ্রাসা ধারা থেকে কামিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন, যা তার অসাধারণ মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের প্রমাণ বহন করে।

* বহুভাষিক দক্ষতা: আরবি, উর্দু, হিন্দি, ফারসি, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় তার সমান দক্ষতা তাকে বহুভাষিক ও বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চার একজন ব্যতিক্রমী আলেমে পরিণত করেছে।
কর্মজীবনের বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা
মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকী তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা, শরিয়াহ ব্যাংকিং, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্বসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন:
* ইমামতি ও খতিব: তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইমামতি করেছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইসলামের মধ্যপন্থা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
* শিক্ষকতা ও গবেষণা: তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে বহু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ (আইআইইউসি) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের দারুল মারিফ ও দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন।
* ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহ ব্যাংকিং: দেশের ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য। সবশেষ তিনি ‘সেন্ট্রাল শরীয়াহ্ কাউন্সিল ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ’-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ইসলামী উইংয়ের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
* আন্তর্জাতিক বিচারক: তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর ও ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে তার অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিদ্যাগত মর্যাদার প্রতিফলন।
বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানের মূল সুর
আজকের অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী মহাপরিচালকের অবদানের কথা স্মরণ করে তার ভবিষ্যৎ কল্যাণ কামনা করেন। একই সাথে নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার সময় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, তার জ্ঞান, আধুনিক শিক্ষা, প্রশাসনিক বিচক্ষণতা এবং অনন্য নেতৃত্বের ছোঁয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া আসবে।
নবনিযুক্ত মহাপরিচালক তার বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য—ইসলামের সঠিক দাওয়াত, মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার আদর্শ প্রচার এবং এর দেশব্যাপী বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক পটভূমি: উল্লেখ্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ধর্মবিষয়ক मंत्रालয়ের অধীন একটি শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত, যা দেশজুড়ে ৭টি বিভাগীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা কার্যালয়, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ২৯টি ইসলামিক প্রচারণা কেন্দ্রের এক বিশাল নেটওয়ার্কের সহায়তায় তাদের সমস্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। আলেম সমাজের প্রত্যাশা, নতুন ডিজির যোগ্য নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি ও সামাজিক সেবায় এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews