মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

মুক্তিপণের দাবীতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

মুক্তিপণের দাবীতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার

মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ আমিন, কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫) ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত চার তরুণকে জীবিত উদ্ধার করেছে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে পরিচালিত শ্বাসরুদ্ধকর এ অভিযানে অপহরণকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে পাহাড়ের একটি গোপন আস্তানা থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৬ জুন রাতে ফেনী থেকে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন এনাম হোসেন জিসান (২৩) ও তৌহিদুল ইসলাম তামিম (১৯)। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ২৮ জুন ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার পরপরই র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয় যে, নিখোঁজ দুই তরুণকে টেকনাফের একটি সংঘবদ্ধ পাহাড়ি অপহরণকারী চক্র অপহরণ করে গহীন পাহাড়ে আটকে রেখেছে। পরে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।মঙ্গলবার দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে র‌্যাব-১৫ ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করেন। চারদিক থেকে পাহাড় ঘিরে ফেলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর পাহাড়ের একটি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে চারজন অপহৃত তরুণকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া চারজন হলেন— ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার গনিপুর গ্রামের এনাম হোসেন জিসান (২৩), একই উপজেলার গনিপুর গ্রামের মো. এমাম হোসেন (১৮), ফেনী পৌরসভার পশ্চিম রামপুর এলাকার তৌহিদুল ইসলাম তামিম (১৯) এবং হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার নোয়াঐ গ্রামের সুমন মিয়া ওরফে হোসাইন (২২)।
র‌্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিমরা জানান, অপহরণকারীরা তাদের হাত-পা বেঁধে পাহাড়ের একটি গোপন আস্তানায় আটকে রাখে। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সময়মতো অভিযান পরিচালনা না হলে তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলেও ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র‌্যাব-১৫ আরও জানায়, অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে র‌্যাব ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews