ঠাকুরগাঁও এ র্যাবের অভিযানে কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি সহ গ্রেপ্তার ২
সানোয়ারুল ইসলাম সোহান, রংপুর:
এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নিয়মিতভাবে চাঞ্চল্যকর হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, রাহাজানি, চোরাকারবারিসহ মারাত্মক সব অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। প্রত্নসম্পদ ও জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নবস্তু চোরাচালানের বিরুদ্ধে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কিসমত ভৈষা গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১৫ কেজি ওজনের একটি কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩। এ সময় মূর্তিটি চোরাচালানের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ৩ নম্বর বকুয়া ইউনিয়নের কিসমত ভৈষা গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে মোঃ হাসান আহাম্মদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর থেকে একটি কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মূর্তিটির ওজন প্রায় ১১৫ কেজি। এর মাথার অংশের দৈর্ঘ্য ৩২ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২২ ইঞ্চি এবং নিচের অংশের দৈর্ঘ্য ১৬ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২২ ইঞ্চি। মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় কিসমত ভৈষা গ্রামের মোঃ হাসান আহাম্মদ (২৬) এবং নন্দগাঁও (মুন্সিপাড়া) এলাকার মো. নাজমুল (৬৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে মূল্যবান কষ্টি পাথরের মূর্তিটি সংরক্ষণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন।
এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিসহ জব্দকৃত আলামত এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া, প্রত্নসম্পদ ও জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নবস্তু চোরাচালানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র্যাব ১৩।