শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
অবশেষে শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি । কালীগঞ্জে অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থী, দুঃস্থ নারী ও ক্ষুদ্র,নৃগোষ্ঠীর মাঝে উপকরণ বিতরণ ! নিশীথ বর্ষার কাব্য  ৯০ বছরের বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের  নিরব আতঙ্ক !!  তারাগঞ্জে ডিবি পুলিশের হাতে এক ভিসা জালিয়াতি ও প্রতারক গ্রেফতার, সরঞ্জাম জব্দ  ! সরকারি জমি দখলের মরিয়া চেষ্টা: এসিল্যান্ডের বাধাতেও ক্ষান্ত হচ্ছে না ভূমিদস্যুরা ! মেঘনায় ইয়াবাসহ মা-মেয়ে ও মাদকসেবী যুবক আটক, আদালতের পৃথক সাজা ইতিহাস চর্চা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ! চাকরির পেছনে না ছুটে পটল চাষেই লাখপতি দিনাজপুরের রহিম ! কালীগঞ্জে অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থী, দুঃস্থ নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে উপকরণ বিতরণ

৯০ বছরের বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের  নিরব আতঙ্ক !! 

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

৯০ বছরের বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের  নিরব আতঙ্ক !! 

আলমগীর হোসেন লেবু, (রংপুর) :

সকালের ঘন্টা বাঁচতেই একে একে শ্রেণিকক্ষে ঢুকছে শিশুরা।  ক্লাস শুরু হওয়ার আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বই- খাতা গুছিয়ে বেঞ্চে বসে। কিন্তু পাঠে মনোযোগ দেওয়ার আগেই তাদের চোখ চলে যায় মাথার ওপর জীর্ণ টিনের ছাদ আর দেয়াল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফাটলের দিকে। ৯০ বছরের পুরানো বিদ্যালয়ে এখন নীরব আতঙ্ক।  স্থানীয়রা বলেন, ১৯৩৫ সালে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রহিমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়টি একসময় ছিল এ এলাকার শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র । কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে বর্তমানে এটি জরাজীর্ণ ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের দেয়াল জুড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সামগ্রিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ছাদ দিয়ে বর্ষাকালে নিয়মিত পানি চুঁইয়ে পড়ে, যা শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। ফলে অধিকাংশ সময়ই শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামলী রানী জানান, ‘বর্তমানে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৯৩ জন শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে অধ্যয়ন করছে’। তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবন দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। প্রতিদিনই আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস নিতে হচ্ছে’। বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে এক শিফটে পাঠদান হলেও গত এক বছর ধরে বাধ্য হয়ে দুই শিফটে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্ষাকালে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। অনেক সময় ভেজা মেঝেতে বসেই ক্লাস করতে হয়। এতে তাদের পড়াশোনার মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে এবং নিয়মিত পাঠ গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাব্বি, মোহাম্মদ জাকারিয়া ও প্রতিমা জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করা আমাদের জন্য প্রতিদিনই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবক নারায়ণ রায় বলেন, ‘১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্তু এখন বিদ্যালয়টির অবস্থা খুবই শোচনীয়। বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।  বর্তমানে এ অবস্থায় প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। তিনি আরো বলেন, অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে অন্য বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাচ্ছেন। এতে করে ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের  শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে’। আরেক অভিভাবক মোঃ আনোয়ার হোসেন  বলেন, ‘এটি এ এলাকার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমিও এই বিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টির কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। ফলে বিদ্যালয়ের জমি ধীরে ধীরে বেদখলের সম্ভবনাও দেখা দিয়েছে’।  এ বিষয়ে জানতে  চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাগমা শিলভিয়া খান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে’।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews