
মেঘনায় ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের ট্রেইনারের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর বাজারে অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টারের ট্রেইনার আফরান সুলতানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সাব-এজেন্ট ও মাস্টার এজেন্ট শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মেঘনা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত আফরান সুলতানা বিভিন্ন সময়ে ১১ জন গ্রাহকের হিসাব থেকে ধাপে ধাপে মোট ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। কৌশলে গ্রাহকদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং ব্যাংকিং তথ্য ব্যবহার করে ওই অর্থ তার স্বামীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও পরবর্তীতে উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট হিসাবের স্টেটমেন্ট যাচাই করে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে অভিযুক্তের কাছে অর্থ ফেরত চাওয়া হলে তিনি বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেননি। বিষয়টিকে তিনি পরিকল্পিত প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বটতলী গ্রামের শাহিনুর বেগম বলেন, “আমি নিয়মিত ওই ব্যাংকিং সেন্টারে টাকা জমা ও উত্তোলন করতাম। ফলে তাদের প্রতি আমার আস্থা তৈরি হয়েছিল। এক পর্যায়ে আমি পাঁচ লাখ টাকা জমা দিলেও আমাকে কোনো রশিদ দেয়া হয়নি। রশিদের কথা বললে বলা হয় সার্ভার সমস্যার কারণে পরে মোবাইলে মেসেজ যাবে। দুইদিন অপেক্ষার পরও কোনো মেসেজ না পেয়ে আমি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাই। পরে জানতে পারি, আরও অনেক গ্রাহকের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আফরান সুলতানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একবার ফোন ধরলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কুমিল্লা জেলা সেলস অফিসার এ বি মনয়জ সরকার বলেন, “গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখি। এ সময় অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আংশিক স্বীকারোক্তি দিলেও পরে তা অস্বীকার করেন। বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আপাতত সংশ্লিষ্ট এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অডিটের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”