
চরভূমি দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনার আলিপুর ও তিতাসের বাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত অনেক
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আলিপুর গ্রাম এবং তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরভূমির দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আলিপুর গ্রামের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন কিছু জমি নদীভাঙনের ফলে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে নদীতে নতুন চর জেগে উঠলে ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে চরটি তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরা ও চর কাঠালিয়া এলাকার কিছু লোকজনের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সম্প্রতি উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে দুই গ্রামের বহু মানুষ আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আলিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট চরভূমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। সিএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি বাটোয়ারা মৌজার অন্তর্ভুক্ত এবং আলিপুর গ্রামের লোকজনের মালিকানাধীন ছিল। তবে বিএস রেকর্ডে জমিটি সরকারি খাস জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায়। এ কারণে জমিটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চরটি প্রশাসনিকভাবে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত। তবে আলিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবেচনায় চরভূমিটি মেঘনা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। তারা অভিযোগ করেন, তাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে মেঘনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধপূর্ণ চরভূমির মালিকানা নিয়ে এখনও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী মেঘনা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।