
মেঘনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক-রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ !
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেছে।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. তানভীর বাদী হয়ে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে রোগীর স্বজন সূচনা আক্তার ডা. তানভীর ও তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগকারী সূচনা আক্তার জানান, তার দেড় বছর বয়সী কন্যা সন্তান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর তাদের সিরিয়ালে দাঁড়াতে বলেন। শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানালে চিকিৎসক বিরূপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে চিকিৎসক ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সূচনা আক্তার ও তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তারা আহত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ভাই গুরুতর আহত হন এবং তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়। এছাড়া হাসপাতালের একটি গেট বন্ধ করে কিছু সময় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে চিকিৎসক ডা. তানভীরের দায়ের করা মামলায় ভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রোগীর স্বজনদের সিরিয়াল মেনে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বলা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগালি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন।এদিকে শিবনগর গ্রামের মেহেদী হাসান মিঠুনসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, এই হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদেরর বিরুদ্ধে অতীতেও রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগ আছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন ও হাসপাতাল ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বলেও তারা জানান।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমা রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।মেঘনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসকের করা একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। অপর পক্ষের একটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জেনেছি, তবে সেটি এখনও আমার তদন্তে আসেনি।” মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার জানা মতে একটি মামলা হয়েছে। অপর পক্ষের কোনো অভিযোগের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই।”ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।