শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
 দুর্ঘটনার শঙ্কায় পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল মেয়াদ শেষের দুয়ারে ! বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস) রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠীত হয় ! ঘোড়াঘাটে ছাগলসহ আটক চোরকে ‘রাজনৈতিক প্রভাবে’ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ! হাটহাজারীতে অস্ত্রসহ ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে ৪ যুবক গ্রেপ্তার ! মাধবদীতে প্রবাসীর বাড়িতে ৪-৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসী হামলা ! সৈকতে  গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু ! ‎রংপুর জেলা  ডিবি’র অভিযানে  ভিসা জালিয়াতি ও  অনলাইন ক্যাসিনো সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ০১ অবশেষে শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি । কালীগঞ্জে অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থী, দুঃস্থ নারী ও ক্ষুদ্র,নৃগোষ্ঠীর মাঝে উপকরণ বিতরণ ! নিশীথ বর্ষার কাব্য 

লেবাননে ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই পরিবারে শোকের মাতম!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

লেবাননে ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই পরিবারে শোকের মাতম!

ইউনুছ আলী, সাতক্ষীরা সদর: লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীকর্মী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সাতক্ষীরার দুটি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

সোমবার দুপুরে লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে একটি আবাসস্থলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি ও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হন বলে জানিয়েছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র। নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২৬)। শফিকুল ইসলাম ছিলেন আফসার আলীর একমাত্র সন্তান এবং নাহিদুল ইসলাম আব্দুল কাদেরের ছেলে। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন জেবদিন এলাকায় এটি ছিল দ্বিতীয় দফা হামলা। এর আগে একটি রুটি বহনকারী ভ্যানে হামলায় আরও দুই স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় নিহতদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ নাবাতিয়েহর নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা রয়েছে বলে জানা গেছে।

মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। সাতক্ষীরার ধুলিহর ও আশাশুনি- দুই এলাকায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে মাসখানেক আগে জীবিকার সন্ধানে লেবাননে গিয়েছিলেন তাঁরা। স্বপ্ন ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের হাল ফেরানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে এখন শুধু ফিরে এসেছে মৃত্যুর সংবাদ। শফিকুল ইসলামের প্রতিবেশী ও স্থানীয় শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ বলেন, “গত রমজানে অনেক আশা নিয়ে বিদেশে গিয়েছিল শফিকুল। সে ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান। এখন বাবা-মা বাকরুদ্ধ।” একইভাবে নাহিদুল ইসলামের বাড়িতেও চলছে শোকের ছায়া। স্বজনরা জানান, ঋণ করে বিদেশে পাঠানো ছেলের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার।

ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “পরিবার দুটি এখন চরম অসহায় অবস্থায় আছে। সন্তান হারিয়ে তারা মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।” লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নিহত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর স্বজনদের একটাই অপেক্ষা—প্রিয়জনের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরে আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews