
সাংবাদিকতায় অপ-সাংবাদিকতার থাবা: সংকটে মূলধারার গণমাধ্যম
সাংবাদিকতা নিছক একটি পেশা নয়, এটি সমাজের বিবেক। সত্য উদঘাটন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনস্বার্থ রক্ষাই এর মূল লক্ষ্য। অথচ আজ এই মহান পেশাটি কিছু অসাধু সম্পাদক ও ভুঁইফোড় সাংবাদিকের দৌরাত্ম্যে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
টাকার বিনিময়ে প্রেসকার্ড সংগ্রহ করে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এক শ্রেণির অপ-সাংবাদিক। তাদের এই বেপরোয়া আচরণ শুধু পেশার মান ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছে—কে প্রকৃত সাংবাদিক, আর কে ভণ্ড—তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্পাদক বনাম সম্পাদক এবং সাংবাদিক বনাম সাংবাদিকের হীন প্রতিযোগিতা। ব্যক্তি স্বার্থ, প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এক শ্রেণির মানুষ সাংবাদিকতার নৈতিকতা ভুলে যাচ্ছে। ফলে তৈরি হয়েছে এক অশুভ চক্র, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পেশার মর্যাদা ধ্বংস করতে দ্বিধা করছে না।
এই অবস্থার অবসান না হলে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখনই সময় কঠোর নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। নচেৎ এই পেশার গৌরব ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে