শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
স্হানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে -জহির উদ্দিন স্বপন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা পুলিশের ডিআইজির বাড়িতে চলতো ডিজে পার্টি মাদক ও নারীসহ আটক ৮৪ গাইবান্ধায় ২ শিক্ষকে চলছে ৬ শ্রেণি, সংকটে খলিশার পটল প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘোড়াঘাটে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন সমাজ কল্যান মন্ত্রী ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন  পরিবার কল্যাণ এর পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও নানা দূর্নীতির অভিযোগ পাবনায় নেশার টাকা না পেয়ে মাকে জবাই করে হত্যা ॥ ছেলেকে আটক পাবনার তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে মানববন্ধন

নবীনগরে গাঁজার চালান থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ বরখাস্ত

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬




ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৬০ কেজি গাঁজা মাত্র ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছার। যদিও অভিযোগের মূল তীর এসআই জাহিদের দিকে, তবে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা ঘিরে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
থানার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নবীনগরের সোহাতা – রসুল্লাবাদ সড়কের কানাইবাড়ি মোড়ে এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি পিকআপ ভ্যান থামানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে ওই পিকআপ থেকে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও আশ্চর্যজনকভাবে নবীনগর থানায় এ বিষয়ে কোনো জব্দ তালিকা, মামলা নম্বর বা আলামত সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা থেকে নবীনগর হয়ে ঢাকাগামী ওই পিকআপ ভ্যানে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল। ঘটনার রাতে পিকআপটি আটক হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আনিস নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এসআই জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারের সঙ্গে দরকষাকষি শুরু হয়। প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের গাঁজা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৭ লাখ টাকা ঘুষে সমঝোতা হয়। সূত্রের দাবি, এই অর্থের একটি অংশ নগদে এবং বাকি অংশ একটি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পরদিন ৬ জানুয়ারি অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য থানা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে টাকা লেনদেনের বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন বলে উপস্থিত একাধিক সূত্র দাবি করেছে। পরে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘুষের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।যা কালবেলা প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews