বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
‎রংপুরে কর্মরত সাংবাদিককে পুলিশের বড় কর্মকর্তা পরিচেয় হুমকি,থানায় জিডি ! রাজউক-রিহ্যাব বৈঠকে ড্যাপ’র জটিলতা, শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসায় আসছে নতুন নীতিমালা সাতক্ষীরায় বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা ! মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের আগাম অর্থ লেনদেন না করার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের কালীগঞ্জে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যুগান্তর স্বজন সদস্যের ওপর হামলা লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা  ক্যাম্পে মাদ্রাসায় পাহাড়ধস,নিহত ১, বহু হতাহতের  শঙ্কা ! কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের বিকাশে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাইদুল ইউসুফ জিসান বালা কক্সবাজারে ৩৩  ইউনিয়ন  প্লাবিত,  পানিবন্দী হাজারের অধিক  মানুষ,

রাজউক-রিহ্যাব বৈঠকে ড্যাপ’র জটিলতা, শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসায় আসছে নতুন নীতিমালা

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

রাজউক-রিহ্যাব বৈঠকে ড্যাপ’র জটিলতা, শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসায় আসছে নতুন নীতিমালা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর আবাসন খাতের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা নিরসন, ড্যাপ বাস্তবায়নে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ড্যাপ সংশোধন, এফএআর (FAR) বৃদ্ধি, সেটব্যাক শর্ত শিথিলকরণ, এসটিপি (STP) স্থাপনের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনাসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। একই সঙ্গে শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও জানায় রাজউক। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে সংস্থাটির ২০ জনেরও বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি অংশ নেন। অন্যদিকে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, বিভিন্ন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালকবৃন্দ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আউয়াল, তানভিরুল হক প্রবাল, বিটিআই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান, রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, সংসদ সদস্য এম ফখরুল ইসলামসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন উদ্যোক্তারা। সভায় আবাসন শিল্পের বর্তমান সংকট, পরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ এবং ড্যাপ বাস্তবায়নের কারণে মাঠপর্যায়ে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান ড্যাপের কিছু বিধান বাস্তব প্রয়োগে আবাসন উন্নয়ন কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। এর ফলে একদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি। বর্তমান বাস্তবতায় কিছু বিধান সংশোধন না করলে আবাসন খাত আরও সংকটে পড়তে পারে। সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় এফএআর বৃদ্ধি, সেটব্যাক নীতিমালার পুনর্বিবেচনা, উচ্চ ভবন নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়টি। রিহ্যাবের নেতারা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় যৌক্তিকভাবে এফএআর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত উল্লম্ব নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া এসটিপি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ধরন, জমির পরিমাণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিবেচনায় নমনীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। বিশেষ করে পাঁচ কাঠা বা তার চেয়ে ছোট আকারের প্রকল্পে বাধ্যতামূলক এসটিপি স্থাপনের বিধান পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান জানান, সেবা সহজীকরণ এবং হয়রানি কমাতে ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ভবন নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব রিহ্যাবকে অর্পণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়। এতে নিয়ম মেনে নির্মিত ভবনের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিহ্যাব নেতারা জানান, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৯টিরও বেশি লিংকেজ শিল্প জড়িত। ফলে আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও সময়োপযোগী নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। সভায় উভয় পক্ষই আবাসন খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের বিষয়ে একমত হন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews