
দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭ দিনে ৪ শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা !
নিষ্পাপ ফুলগুলো ঝরে যাওয়ার দায় কার?
দেশের বিভিন্ন স্থানে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত চারটি শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা, সিলেট, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সিগঞ্জে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে এসব ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা আদালতে ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করেছে।
পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা:
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেয়ার আগে সোহেল রানাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েকজন তাকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা বিবৃত করেন বলে জানা গেছে।
ইয়াবার ঘোরে ৪ বছরের ফাহিমাকে ধর্ষণ ও খুন, লাশ লুকানো হলো সুটকেসে
সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত সোমবার (১৮ মে) রাতে কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে প্রতিবেশী ও দূরসম্পর্কের চাচা জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ–পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নেশাগ্রস্ত জাকির হোসেন ইয়াবার ঘোরে লিপ্ত হয়ে এই অপরাধ ঘটায়। নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।
ভুট্টা ক্ষেতে মিলল ৪ বছরের লামিয়ার লাশ, নবম শ্রেণির ছাত্র আটক
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ধর্ষণের পর লামিয়া আক্তার (৪) নামে এক কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরশালিন (১৪) কে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একই এলাকার ভড়নিয়া গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে সেন্টু নামের এক ব্যক্তি শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। লামিয়া আক্তার রাণীশংকৈল উপজেলা ধর্মগড় ইউনিয়নের ভড়নিয়া গ্রামের সফিফুল ইসলামের মেয়ে। আর আটক মুরশালিন একই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে
কাতার প্রবাসীর ১০ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করল সৎ মামা:
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ মামার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত সৎ মামা রাজা মিয়াকে (৪৫) ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরী ওই এলাকার কাতার প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক রাজা মিয়া খুলনা জেলার মোড়লগঞ্জ থানার মৃত আকবর হাওলাদের ছেলে। তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গেই একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। দুপুরে নিজ ঘরের খাটের ওপর ওই কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় সারাদেশে আলোরন সৃষ্টির সাথে সাথে জনমনে তীব্র খোবও সৃষ্টি হয়েছে, এইসব ধর্ষকদের জনসম্মুখে শাস্তির দাবি করছেন প্রত্যেক শ্রেণীর সাধারণ জনগণ।