
তিনি বলেছেন, বিএনপি একমাত্র দল যারা দেশকে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। আসুন, আমরা আগামী ১২ তারিখে এমন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করি, এমন দলকে নির্বাচিত করি যাদের দেশ পরিচালনা অভিজ্ঞতা আছে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।
তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল বিএনপি, যাদের দেশ গড়ার একটি পরিকল্পনা আছে। বিএনপি একমাত্র দল যাদের কর্মসূচি আছে দেশকে পুনর্গঠন করার। বিএনপি একমাত্র দল যাদের সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির প্রতি সব সময় জনগণের সমর্থন ছিল। জনগণের সমর্থন ছিল বলে বিএনপি জনগণকে রেখে চলে যায়নি।
বিএনপি সব সময় জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করেন তিনি বলেন, জনগণ যতবার বিএনপিকে সুযোগ দিয়েছে, ততবারই বিএনপি চেষ্টা করেছে তার সর্বশক্তি দিয়ে দেশকে গড়ে তোলার। আসুন, আমাদের দেশ গঠন করতে হবে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কাজেই বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। বিএনপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে সময় দেশ পরিচালনা করেছিলেন, উনি দুর্ভিক্ষ কবলিত একটি দেশে খাদ্য বৃদ্ধি দ্বিগুণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করে উনি বিদেশে পর্যন্ত খাদ্য রপ্তানি করেছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য সরবরাহ করার পরও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, উনি বাংলাদেশে অনেক শিল্প-কারখানা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। বিদেশের সব পত্রিকা তখন বলতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ হচ্ছে একটি ইমার্জিং টাইগার।
তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেখেছি, কীভাবে তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করেছিলেন, মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করেছিলেন। এই কাজগুলো থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি একমাত্র দল যারা দেশকে অভিজ্ঞতার আলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম।
তিনি বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন সেই নির্বাচন, যার জন্য বিগত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দেশকে স্বৈরাচার শেষ করে দিয়ে গেছে। তারা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই দেশকে আবার গড়ে তুলব। দেশ যেহেতু আমাদের, সুতরাং বাইরে থেকে এসে কেউ গড়ে দিয়ে যাবে না।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সব নাগরিক দিন-রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ সময় বহু মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা রক্ষা করা এবং নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা জরুরি। এ লক্ষ্যে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষেরা এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতনতা বাড়বে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: অনলাইন