
উপ¯’াপনাঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে কয়জন বিশ্বের মানচিত্রে সোনালী হরফে চীর স্মরনীয় থাকবেন
তাদের মধ্যে অন্যতম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ ওসমান হাদি।
পরিচয়ঃ তার নাম শরীফ ওসমান বিন হাদি। যিনি ওসমান হাদি নামেই খ্যাত। সে ঝালকাঠির নলছিটি
উপজেলার খাসমহল এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম: মাওলানা
শরীফ আব্দুল হাদি। যিনি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও ¯’ানীয় ইমাম ছিলেন। ৬ ভাই বোনের মধ্যে (৩
ভাই ৩ বোন) হাদি সর্বকনিষ্ঠ। বড় ভাই মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়ার একটি জামে
মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। মেঝো ভাই মাওলানা ওমর ফারুক ঢাকায় ব্যবসা করেন।
তার তিন বোনের স্বামীরাও শিক্ষকতা ও দ্বীনি শিক্ষার কাজে জড়িত। বড় বোনের স্বামী মাওলানা আমির
হোসন নলছিটি ফুলহরি আব্দুল আজিজ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং মসজিদের খতিব। মেঝো বোনের
স্বামী মাওলানা আমিরুল ইসলাম ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট বোনের স্বামী মাওলানা মনির হোসেন
নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
শিক্ষা জীবনঃ শহিদ ওসমান হাদি নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া
করে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণী থেকে আলিম পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে ঢাকা
বিশ্ব বিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। সে
ইউনিভার্সিট অব স্কলার্স নামক একটি বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে শিক্ষকতা করেন।
প্রতিভাঃ ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামের মতে
“হাদি ছাত্র জীবন থেকে অসম্ভব মেধাবী ও সু বক্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সো”চার ছিল” সে ছিল
বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী। সে একাধারে একজন কবি, সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি
অর্জন করেন।
বিবাহঃ শহিদ ওসমান হাদি ২০২০ সালে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন প্রতাভপুর গ্রামে অবসর
প্রাপ্ত পুলিশ সুবেদার জনাব সুলতান আহমেদ ও শাহানাজ বেগমের কন্যা রাবেয়া সম্পাকে বিবাহ
করেন। তার শশুরের মতে- “হাদি একজন সৎ, প্রতিবাদী এবং অন্যায়ের সাথে আপোসহীন মানুষ”
২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী হাদির একমাত্র পুত্র ফিরনাস বিন ওসমান এর জন্ম হয়।
সংসদ সদস্য হিসাবে প্রার্থী ঘোষণাঃ ওসমান হাদি নিজেকে ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে নিজেকে
প্রার্থীহিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। হয়তো এটিই তার জীবনের জন্য কাল হয়েছে।
ওসমান হাদি প্রেক্ষিত ইনকিলাব মঞ্চঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণ্যঅভ্যুত্থানের
সম্মুখভাগের অকুতভয় সৈনিক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। তার দৃষ্টিতে ছিল ইনসাফের বাংলাদেশ
নির্মাণ। ইনকিলাব মঞ্চে জুলাই আগস্ট ২০২৪ সালে সংগঠিত হওয়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশ
গ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অনুপ্রাণিত সংগঠন। যার লক্ষ উদ্দেশ্য হলো সম¯’ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে
দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফ ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা। এটি গঠিত হয় ২০২৪
সালের ১৩ আগস্ট।
গুলিবিদ্ধঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র/প্রতিষ্ঠাতা শরিফ ওসমান হাদি আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগে সংশ্লিষ্ট ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের নিক্ষিপ্ত গুলিতে ২০২৫
সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ২টা ২৫ মিনিটের সময় ঢাকার বিজয় নগরের বক্স কালভার্ট
এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন।
শাহাদাতঃ শহিদ ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে
ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরের
জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার সিটি স্কেন করা হয়। তার মস্তিস্কে অস্ত্রোপাচার/
অপারেশন করা হয়। কিš‘ দূর্ভাগ্য তার অপারেশন সফল হয়নি। তিনি শাহাদাত বরণ করেন
(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন)।
দাফনঃ ২০ ডিসেম্বর শনিবার দুপুর ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়
তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় লক্ষ লক্ষ ছাত্র- জনতার সাথে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস,
উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাসহ অসংখ্য গুণিজন অংশ
গ্রহণ করেছেন। জানাজা পড়ান তার বড় ভাই মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। পরে বিদ্রোহী কবি কাজী
নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে কন্ঠে বিদ্রোহী কবিতার ঝংকার তোলা শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে
কবর¯’ করা হয়। যেখানে শায়িত আছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল
আবেদিন, জাতীয় পতাকার নক্সাকার কামরুল হাসান, শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ২ উপাচার্য
প্রফেসর আব্দুল মতিন চৌধুরী ও প্রফেসর মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
উপসংহারঃ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর শহিদ শরিফ ওসমান হাদি আজীবন বাঙ্গালী
জাতির হৃদয়পটে সোনালী অক্ষরে থাকবে চীর অম্লান হয়ে।