রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মনোহরদীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বিশ্ব কল্যাণ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর সমাবেশ ! বাউফলে পুলিশের অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ তিনজন আটক। গাইবান্ধা সহ ৭ জেলায় নতুন করে বন্যার আভাস অদৃশ্য অন্তরে কক্সবাজারসহ সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ধরা’র সংবাদ সম্মেলন হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজি চালকের পরিবারের পাশে জামায়াত কক্সবাজারে দূর্গম  পাহাড়ে  অস্ত্র তৈরীর কারখানা,  আটক বাহিনীর  প্রধান, ধামরাইয়ের ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা, মাসব্যাপী রথমেলা শুরু বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঘোড়াঘাট পৌরসভায় উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারে হঠাৎ দর পতন  লোকসানে কৃষক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

পাবনার বিভিন্ন হাট-বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গেল সপ্তাহের হাটে প্রতি মণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। কিন্তু মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই দাম নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। হঠাৎ এভাবে দাম অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে কৃষকেরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
পেঁয়াজের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এ বছর ১৬ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসে প্রায় দুই মাস আগে। তখন প্রথম দিকে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকায়। পরে দাম কমে একপর্যায়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এরপর আবার বাড়তে বাড়তে তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় পৌঁছায়। এই দামে কৃষকেরা প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ করছিলেন। কিন্তু শনিবার থেকে দ্রুত দাম কমতে শুরু করে।
রোববার ও শনিবার পাইকারি পেঁয়াজের হাট করমজার চতুরহাট, চিনাখড়া ও আতাইকুলা হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ছোট আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আরও কম দামে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ কৃষকেরা বাড়ি ফিরছেন।সাঁথিয়া উপজেলার তৈলকুপি গ্রামের কৃষক রমজান আলী, কাশিনাথপুরের বাবলু শেখ ও ইমদাদুল হক জানান, গড়ে প্রতি মণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও তাঁরা প্রতি মণ পেঁয়াজ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভে বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ দাম অর্ধেকে নেমে যাওয়ায়
এখন প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, মাঠে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। লোকসানে বিক্রি করে অনেক কৃষক চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরছেন। সাঁথিয়া উপজেলার পুন্ডুরিয়া গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধারদেনা করে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। এখন পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচই উঠছে না। তাই ধারদেনা শোধ তো দূরের কথা, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুরহাটের আবদুল মুন্নাফ এবং বোয়াইলমারী হাটের রাজা হোসেন নামের দুই পেঁয়াজ আড়তদার বলেন, অর্ধেকের বেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ইতিমধ্যে উঠেছে। মাঠে থাকা পেঁয়াজের বেশির ভাগই পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকেরা দ্রুত তুলছেন। ফলে হাটে সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু সে তুলনায় ক্রেতার চাহিদা কম। রমজানের শুরুতে পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কম থাকে। এ ছাড়া ৮-১০ দিনের মধ্যে নতুন হালি পেঁয়াজ হাটে উঠবে। এসব কারণেই দাম কমেছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। সেখানে ১ হাজার বা ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে কৃষকেরা চরম হতাশ। এমন দামের কারণে কেউ কেউ জমি থেকে পেঁয়াজ তোলাও বন্ধ
করে দিয়েছেন। পাবনা জেলা কৃষি তথ্য অফিস জানায়, পাবনায় মুড়িকাটা ও হালি এই দুই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। মুড়িকাটা পদ্ধতিতে অক্টোবর-নভেম্বরে আবাদ করা হয় এবং ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা হয়। অন্যদিকে হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আবাদ করে মার্চ-এপ্রিলে পেঁয়াজ তোলা হয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews