
দীঘিনালার হাজাছড়া শাপলা বিলে পর্যটকদের ভিড়, বাড়ছে পর্যটন সম্ভাবনা
হাসান মোর্শেদ, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ঘেরা জলাশয়জুড়ে ফুটেছে লাল শাপলা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা ‘হাজাছড়া শাপলা বিল’ এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মেরুং বাজার। সেখান থেকে আধা কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত বিলটি স্থানীয়দের কাছে ‘ছোট হাজাছড়া ড্যাপা’ নামে পরিচিত। প্রায় ১০ একর আয়তনের এই বিলের পাঁচ একরজুড়ে রয়েছে লাল শাপলার বিস্তার। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে শাপলা ফুল ফোটে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রায় ২০ বছর ধরে বিলে শাপলা ফুটলেও গত দুই বছরে এটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ফুটে থাকা লাল শাপলা আর চারপাশের সবুজ পাহাড় মিলে তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দূর থেকে মনে হয়, জলাশয়ের বুকে বিছিয়ে রাখা হয়েছে লাল-সবুজের নকশি কাঁথা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ও রিলস তৈরি করছেন। আবার কেউ বিলের পানিতে হাত-পা ডুবিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরিবেশ।
বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে অনেকেই সময় কাটান এই প্রাকৃতিক পরিবেশে। দর্শনার্থীদের মতে, জায়গাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকি করা হলে স্থানটি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
দীঘিনালা উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। তাঁর মতে, হাজাছড়া শাপলা বিল পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি স্থান হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিলটিকে পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলা হলে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি বিলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জরুরি। শাপলা না তোলা, জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া গেলে দীর্ঘদিন ধরে হাজাছড়া শাপলা বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।