রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শরীয়তপুরের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নের এক কিংবদন্তি মাদারীপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ মামলা: সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, রায়ের অপেক্ষায় পরিবার সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য হুমকিতে বন্যপ্রাণী ও উপকূলের জীবিকা ইছামতি নদীতে নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি দিনাজপুর জেলায় এইচএসসিতে পাস ৪৩.৮২%, ছাত্রীরা এগিয়ে! মেঘনায় তামার তার চুরির মামলায় নাসির গ্রেপ্তার গাইবান্ধায় কর্জে হাসানা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ভোগান্তির অবসানে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়ার ময়লার ভাগাড় অপসারণ চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পাশের হার ৫২%, জিপিএ-৫ অর্ধেকের বেশি কমেছে

সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য হুমকিতে বন্যপ্রাণী ও উপকূলের জীবিকা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬



সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য হুমকিতে বন্যপ্রাণী ও উপকূলের জীবিকা

মোঃ কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা

সুন্দরবনে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। জেলে-বাওয়ালিদের অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে আতঙ্কে রয়েছেন উপকূলের বনজীবীরা। অগ্রিম ‘কার্ড’ বা টোকেনের নামে জলদস্যুদের টাকা দিয়ে বনে প্রবেশ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। কোনো দলের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা না হলে অপহরণ করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। এতে হুমকিতে পড়েছে উপকূলের মানুষের জীবিকা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য।

বনজীবীদের দাবি, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শর্তসাপেক্ষে ৫২ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণের পরও সুন্দরবনে দস্যুতা বেড়েছে। বর্তমানে সাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবনে ৮ থেকে ১০টি জলদস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। এসব দলের হাতে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। আত্মসমর্পণের পরও দস্যুতা বন্ধ না হওয়ায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বনজীবীরা।

তাঁদের ভাষ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের আগে জলদস্যুদের বিভিন্ন দলের কাছে অগ্রিম টাকা দেওয়ার চাপ বেড়েছে। ১৫ দিনের নির্ধারিত সময়সীমায় একাধিক দলের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা করতে হয়। প্রতিটি দলের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘কার্ডের’ নামে দিতে হচ্ছে। শ্যামনগর উপকূলের প্রায় ২০ হাজার জেলে-বাওয়ালি এ পরিস্থিতির শিকার বলে দাবি তাঁদের।

কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা না করলে জেলেকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে অনেক বাওয়ালি সুন্দরবনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে বনজীবীরা জানান, আগে রাজস্ব দিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি নিত। চলতি সপ্তাহে পারমিট নিয়েছে মাত্র ১৫০টি নৌকা। এতে সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা সংকটের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বনজীবীদের অভিযোগ, সুন্দরবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সরকারি বাহিনীগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বন বিভাগের অভয়ারণ্যে প্রবেশকারী জেলেদের শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করা হলেও বন বিভাগের কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে বনজীবীদের অপহরণের ঘটনা ঘটছে।

জলদস্যুদের তৎপরতা মানুষের জীবিকার পাশাপাশি সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর জন্যও হুমকি বলে আশঙ্কা করছেন বনজীবীরা। নিরাপদ চলাচল ও অপরাধ আড়াল করতে দস্যুরা বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণী হত্যা বা শিকারে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

এ পরিস্থিতিতে জলদস্যুমুক্ত সুন্দরবনের দাবিতে উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের জেলেরা পাঁচ দিনের ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কর্মসূচির সমন্বয়ক গাবুরার তরুণ নেতা ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন লিটন। তাঁদের দাবি ইতিমধ্যে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

কর্মসূচির চতুর্থ দিনে আগামীকাল ১ নভেম্বর শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের গর্ব নয়, বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ। প্রায় ৬ হাজার ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বন উপকূলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই সুন্দরবন রক্ষায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

বনজীবীদের প্রত্যাশা, জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে গিয়ে আর কোনো জেলেকে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হতে হবে না।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews