রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শরীয়তপুরের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নের এক কিংবদন্তি মাদারীপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ মামলা: সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, রায়ের অপেক্ষায় পরিবার সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য হুমকিতে বন্যপ্রাণী ও উপকূলের জীবিকা ইছামতি নদীতে নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি দিনাজপুর জেলায় এইচএসসিতে পাস ৪৩.৮২%, ছাত্রীরা এগিয়ে! মেঘনায় তামার তার চুরির মামলায় নাসির গ্রেপ্তার গাইবান্ধায় কর্জে হাসানা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ভোগান্তির অবসানে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়ার ময়লার ভাগাড় অপসারণ চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পাশের হার ৫২%, জিপিএ-৫ অর্ধেকের বেশি কমেছে

চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পাশের হার ৫২%, জিপিএ-৫ অর্ধেকের বেশি কমেছে

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬



চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পাশের হার ৫২%, জিপিএ-৫ অর্ধেকের বেশি কমেছে

 চট্টগ্রাম ব্যুরো–

আজ ৩১অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.০৭ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫২.৫৭ শতাংশ। এবার বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।

পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে চলতি বছর চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯৬ হাজার ৩৫৫ জন। অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৫৪৪ জন এবং বহিষ্কৃত হয়েছে ২৭ জন।

এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার সবচেয়ে বেশি ৭৪.৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫২.১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে সবচেয়ে কম ৩৮.৩৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় পাশের হার কমলেও মানবিকে সামান্য বেড়েছে।

বরাবরের মতো এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো ফল করেছে। ছাত্র পাশের হার ৪৭.৬২ শতাংশ এবং ছাত্রী পাশের হার ৫৩.৪৯ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়,

চট্টগ্রাম মহানগরে পাশের হার ৬৮.২০ শতাংশ, যা সব জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে পার্বত্য তিন জেলায় ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক।

– খাগড়াছড়ি জেলা – ২৯.৮৫%

– রাঙ্গামাটি জেলা – ৩৩.২৪%

– বান্দরবান জেলা – ৪১.৪২%

– কক্সবাজার জেলা – ৪৩.৩৪%

এ বছর ৩টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি। শূন্য পাশ কলেজের সংখ্যা গত বছর ছিল ৫টি।

অপরদিকে শতভাগ পাশ করেছে মাত্র ৬টি কলেজ। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৮টি। ১৫৫টি কলেজের পাশের হার ২০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের চেয়ে পাশের হার গড়ে খুব বেশি কমেনি, তারপরেও আশানুরূপ ফল হয়নি। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো ক্লাসে হাজির থাকে না, লেখাপড়ায়ও আগের মত মনোযোগী নেই। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের পর থেকে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ অনেকটা কমে গেছে, যার জন্য তাদের ফলাফল ভালো হচ্ছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্কুল কলেজ গুলো নিয়মিত পরিদর্শন করি। শিক্ষার মান উন্নয়নের ব্যাপারে শিক্ষকদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছি। তারপরেও অভিভাবকদের আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এবার জিপিএ-৫ অর্ধেকের কমে নেমে এসেছে; এটি অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। সবচেয়ে বড় কথা ৯৫% জিপিএ-৫ চট্টগ্রাম শহরেই পেয়েছে, শহরের বাহিরে এবং অন্যান্য জেলাগুলোতে সব মিলিয়ে মাত্র ৫% পেয়েছে। শহরের বাইরে মফস্বলে অনেক মেধাবী ছাত্র ছাত্রী আছে। তারপরেও এ ধরনের রেজাল্ট কেন হল এটা অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক  প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফল খুব বেশি কমেনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শহরের ফলাফল গতবছরের তুলনায় ভালো হয়েছে তবে শহরের বাহিরে ফলাফল ভালো হয়নি। বিশেষ করে পার্বত্য তিন জেলার ফলাফল অত্যন্ত খারাপ। যার কারণে গড় ফলাফলের উপর প্রভাব পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews