রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
গোবিন্দগঞ্জে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়,মাদ্রাসাশিক্ষক আটক আমের খোসা থেকে চা তৈরি, বর্জ্য থেকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত ঘোড়াঘাটে মিথ্যা জিডির প্রতিবাদ: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি গ্রামবাসীদের! গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে প্রয়োজন তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা ! কক্সবাজারে অনুমোদনহীন হোটেল রিসোর্টে শিগগিরই অভিযান! গাইবান্ধায় জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি সভা অনুষ্ঠিত! বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী! গাইবান্ধায় ঘাঘট নদীতে নেমে নিখোঁজ তরুণের মরদেহ ৩ দিন পর উদ্ধার দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদক উদ্ধার! হ্যান্ড বল টুর্নামেন্ট ২০২৬ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

আমের খোসা থেকে চা তৈরি, বর্জ্য থেকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬



আমের খোসা থেকে চা তৈরি, বর্জ্য থেকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

মোহাম্মাদ আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ 

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের খোসা থেকে চা তৈরির উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।জেলার ভোলাহাট উপজেলার তিন বন্ধু—মাইনুল ইসলাম, মিঠুন ও মাসুম।

আম খাওয়ার পর কিংবা আম প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ফেলে দেওয়া খোসাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চা। এতে একদিকে যেমন আমের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারণা যুক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য।

উদ্যোক্তারা  জানান, আমের মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে আমের খোসা ফেলে দেওয়া হয়। এই খোসাকে সম্পদে রূপ দেওয়ার চিন্তা থেকেই তাঁরা কাজ শুরু করেন। রোদে শুকানো ও বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমের খোসা থেকে চা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে বিদেশ থেকে দামি যন্ত্রপাতি আমদানি না করে স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণত আমের খোসা মানুষের কাছে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এটিকে নতুন পণ্যে রূপ দেওয়া সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে আমের মৌসুমে বিপুল পরিমাণ খোসার অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হয়। আমের পাল্প, আচার, জুসসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির সময়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খোসা জমা হয়। এসব খোসা পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে তা উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

তবে আমের খোসা থেকে তৈরি চায়ের পুষ্টিগুণ, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণের উপযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্যনিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা গেলে এ উদ্যোগ ভোক্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিপণ্যের অবশিষ্টাংশকে কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য তৈরির উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। আমের খোসা থেকে চা তৈরির এ উদ্যোগও ভবিষ্যতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

ফেলে দেওয়া আমের খোসা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি নতুন পণ্য তৈরির প্রচেষ্টা নয়; বরং কৃষিজ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের একটি সম্ভাবনাময় উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews