শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সমাজসেবক মাওলানা মনির হোসেনের পাশে এলাকাবাসী খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল মেহেন্দিগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঘোড়াঘাটে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে   ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬, শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ বল্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান ম্যমাচিং নুরুজ্জামান বেপারীর বাবা-মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও মোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত  করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও স্বারকলিপি প্রদান কবিতা /প্রিয় রাসুল ( সা:)/ লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার : গ্রেপ্তারের পর সৎ বাবার স্বীকারোক্তি
আনভিল বাপ্পি ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া কন্যাশিশু মুশফিকা আক্তার তাসফিয়ার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হয়েছে।
এঘটনায় তার সৎ বাবা শাফিউলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল নিজেই তাসফিয়াকে নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
নিহত তাসফিয়া আক্তার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মমিনুল ও লিজা দম্পতির মেজো সন্তান। ২০০৭ সালে মমিনুল ও লিজার বিয়ে হয়। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে তাসফিয়া ছিল দ্বিতীয়। ২০২৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হলে লিজা ঘোড়াঘাটের শাফিউলকে বিয়ে করেন। পরে দুজনেই জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় বসবাস করতেন।
তাসফিয়ার জন্মদাতা বাবা মমিনুল তাকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি করান। ২০২৫ সালে মা লিজা তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। পরে পীরগঞ্জে লিজার বাবার বাড়ির কাছাকাছি একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
সেখানে তাসফিয়ার পড়াশোনা, থাকা-খাওয়াসহ প্রয়োজনীয় খরচ পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে পাঠাতেন তার মা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাসফিয়ার সৎ বাবা শাফিউল অনিয়মিত রিক্সা চালাতেন এবং নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে তিনি তাসফিয়ার খরচের টাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে পীরগঞ্জের একটি মহিলা মাদ্রাসা থেকে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ জুবাইদা বালিকা মাদ্রাসায় তাসফিয়াকে নিয়ে যান শাফিউল।
 মাদ্রাসার পরিচালিকা রমিছা জানান, ওই সময় শাফিউল নিজেকে তাসফিয়ার সৎ বাবা পরিচয় দিয়ে বলেন, শিশুটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করাবেন। নিজের ও স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার কথা বলে তাসফিয়াকে সেদিন রাতে রাখার অনুরোধ জানান। তবে এতে তাসফিয়ার মা লিজা সম্মতি দেননি। তাসফিয়াকে আগের মাদ্রাসায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মা লিজা শাফিউলকে চাপ দিলে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পুলিশের দাবি,  রোববার (১৬ আগস্ট)  সন্ধ্যার পর  শাফিউল তার নিজের এবং তাসফিয়ার মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র মাদ্রাসায় রেখে ছবি তোলা ও শিশুটির জন্য ট্রাঙ্ক কেনার কথা বলে তাসফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজেও শিশুটিকে তার সঙ্গে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানা যায়। এরপর সে আর তাসফিয়াকে মাদ্রাসায় ফেরত দিয়ে যায়নি।
পরে রাত প্রায় ৯টার দিক তাকে নৌকায় করে করতোয়া নদীর মাঝখানে নিয়ে যান এবং নদীতে ফেলে দেন। পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন করতোয়া নদী থেকে লাল কালারের জামা পরা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে তাসফিয়ার সৎ বাবা শাফিউলকে সন্দেহ করে পুলিশ। পরে বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর শাফিউল জিজ্ঞাসাবাদে তাসফিয়াকে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার ওসি  মো.  শহিদুল ইসলাম জানান তাসফিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে অনেকটাই কেটেছে । তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews