শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সোনারগাঁওয়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল গ্রেফতার, র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্র-গুলি ও ১৪ টেঁটা উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে বিসিক শিল্প নগরীতে আবু তাহের ছানা কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাউফলে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরোধ প্রকাশ্যে, হাতাহাতির ঘটনা দিনাজপুর ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত বঙ্গপসাগরে ট্রলার ডাকাতি, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও পাওয়া যায়নি মাঝিকে ​পীরগঞ্জে খাল খননের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ চাটখিলে সাংবাদিকের ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন সাবেক সেনাসদস্য কক্সবাজারে ইয়াবাসহ গ্রেফতার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে পরিণতি হাসিনার মতোই হবে: দিনাজপুরে ছাত্রশিবিরের কড়া হুঁশিয়ারি ও বিশাল বিক্ষোভ

বঙ্গপসাগরে ট্রলার ডাকাতি, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও পাওয়া যায়নি মাঝিকে

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

বঙ্গপসাগরে ট্রলার ডাকাতি, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও পাওয়া যায়নি মাঝিকে

জাবের আলী, কক্সবাজার 

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ট্রলারের অন্য সদস্যরা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসলেও ট্রলারের প্রধান মাঝি আনোয়ার হোসেন (৫২) গত চার বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আনোয়ার হোসেন নোয়াখালী সদর (সুধারাম) থানার আন্ডারচর গ্রামের (নাজুর বাপের বাড়ি) বাসিন্দা মো: আবদুস সামাদের ছেলে। এই ঘটনায় পেকুয়া থানার মামলা নং-০৮, তারিখ: ২৩/০১/২০২২,দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যাহা বর্তমানে সিআইডি কক্সবাজার শাখা তদন্ত করছে।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ট্রলারে মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ০৯/০১/২০২২ইং তারিখে তিনি ট্রলার মালিক মো: আলমগীরের ট্রলার নিয়ে অন্য সহযোগীদের সাথে সাগরে মাছ ধরতে যান। ১৪/০১/২০২২ইং তারিখ রাত অনুমান ৩:০০ ঘটিকায় পেকুয়া থানাধীন মগনামা ঘাটের অদূরে একদল সশস্ত্র জলদস্যু ট্রলারটিসহ মাঝিমাল্লাদের অপহরণ করে সাগরে জিম্মি করে ফেলে।

পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ট্রলার মালিকের ছেলে মো: রাশেদ বিল্লার কাছে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে সবাইকে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে ট্রলার মালিক পক্ষ ফিশারী ঘাট থেকে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ প্রদান করেন। মুক্তিপণ পেয়ে অপহরণকারীরা ট্রলারসহ অন্য সকল সদস্যদের মগনামা ঘাটে ছেড়ে দিলেও প্রধান মাঝি আনোয়ার হোসেন ফিরে আসেননি।

ফিরে আসা অন্য সদস্যদের বরাতে মামলার বাদিনী ও নিখোঁজের স্ত্রী বিবি রহিমা অভিযোগে জানান, অপহরণকারীরা যখন জিম্মিদের মারধর করে মুক্তিপণ দাবি করছিল, তখন আনোয়ার হোসেন মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অপহরণকারীরা তাকে নির্মমভাবে মারধর করে সাগরে ফেলে দেয়। এরপর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবারের পক্ষ থেকে সাগরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করেও আনোয়ার মাঝির কোনো সন্ধান বা মরদেহ পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে সিআইডির কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার জেলা সিআইডির এসআই (নিঃ) আশরাফুল আলম বলেন,”পেকুয়া থানার মামলা নম্বর ০৮ (তারিখ: ২৩/০১/১/২২) এর অধীনে সাগরে ট্রলারে ডাকাতি ও আনোয়ার মাঝি নামক এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। প্রাথমিক তথ্য ও বাদীনির অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের পর ভিকটিমকে সাগরে ফেলে দেওয়ার একটি বিষয় উঠে এসেছে। যেহেতু ঘটনাটি গভীর সাগরে ঘটেছে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, তাই আমরা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা সর্বশেষ পরিণতি উদঘাটনে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।

মামলা তদন্তের স্বার্থে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার কারণে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির এনআইডি কার্ডের সূত্র ধরে দেশব্যাপী অনুসন্ধান চলছে। যদি কোনো ব্যক্তি এই ছবির অবয়বের মানুষের সন্ধান বা কোনো তথ্য পেয়ে থাকেন, তবে তা সিআইডি কক্সবাজার কার্যালয়কে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন তদন্ত কারী কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews