
৩ মাসেও অধরা মাধবদীর হামলা-অগ্নিসংযোগের আসামিরা, বিচারের দাবিতে ডিসি অফিসের সামনে মানববন্ধন !
ফালু মিয়া,নরসিংদী :
মামলা দায়েরের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও নরসিংদীর মাধবদীতে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কোনো বিচার মেলেনি। আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় এবং উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বর্তমানে বাড়ি ছেড়ে ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা। ১ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি, মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকেলে মাধবদীর খৈনমুদ্দি এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লায়লা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। হামলাকারীরা ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নেয়। এখানেই ক্ষান্ত না হয়ে তারা পুরো ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়, এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা বাদীর মেয়ে ফারজানা আক্তারকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর ওই সন্ত্রাসী বাহিনী পাশের বাড়ির খালেদা বেগম ও আবু ছিদ্দিকের বাড়িতেও সমভাবে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। সেখানেও প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার ১ নম্বর আসামি মাধবদী পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে এলাকায় একটি নিজস্ব সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছে। এই পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সে ও তার বাহিনী এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে মামলার বাদী লায়লা বেগম বলেন, “আদালতে মামলা করার পর থেকে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যাযাবরের মতো বসবাস করছি।” দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি রবিবার অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী লায়লা বেগম, মো. আল আমিন, আসিব মিয়া ও আমির হোসেনসহ অন্যান্য বক্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে কোটি টাকার ওপরে ক্ষয়ক্ষতি এবং নারীদের ওপর হামলার মতো এত বড় ঘটনার তিন মাস পার হলেও পুলিশ প্রশাসন আসামিদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বক্তারা অনতিবিলম্বে চিহ্নিত সব আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ঘটনায় লায়লা বেগম বাদী হয়ে সেলিম, ফারুক, জাইদুল, আপন, শুভ, কোহিনুর, সানজিদা ও আকাশসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।