একই টালে গ্রীষ্মের সবজি, শীতে আগাম সিম—লাভের পথে কালীগঞ্জের কৃষক !
জাহাঙ্গীর হোসেন কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের অনেক কৃষকের পরিবারে গ্রীষ্মকালীন সবজি এনে দিয়েছে সচ্ছলতা। গ্রীস্মকালীন সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে।উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে রয়েছে শসা, বেগুন, ঝিংগা, চিচিংগা, কাঁকরোল, পটলসহ বিভিন্ন ধরনের গ্রীস্মকালীন সবজি। অন্যান্য ফসলের চেয়ে সবজি চাষ লাভজনক হওয়াই কৃষকরা ঝুঁকছেন সবজি চাষে।গ্রীষ্মকালীন সবজি করলা, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য তৈরি করা টাল বা বান পরবর্তীতে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যবহার করছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে আগাম জাতের সিম ও লাউ চাষে এই টাল বা বান বেশ কার্যকর হওয়ায় নতুন করে জমি তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে জমি প্রস্তুত, বাঁশ, মাচা ও শ্রমিক খাতে কৃষকদের অনেকটা খরচ কমে যায়। কৃষকেরা জানান, গ্রীষ্মকালীন সবজি তোলার পর একই টাল বা বানের নিচে সিমের বীজ রোপণ করলে দ্রুত গাছ বেড়ে ওঠে। আগাম সময়ে সিম বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি সিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব হওয়ায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকলে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষেও কৃষকেরা ভালো লাভবান হন। করলা, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙ্গা ও শসার ফলন ভালো হলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী দাম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন সবজির টাল ব্যবহার করে শীতকালীন সিম ও লাউ চাষ করতে পারায় কৃষকেরা এক জমি থেকে ধারাবাহিকভাবে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। কম খরচে বেশি লাভের আশায় এলাকার অনেক কৃষক এখন গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছেন। ধান পাট সহ অনান্য ফসলে যখন লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখ দেখছেন তখনই কৃষিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করে ভালো দামও পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসসুত্রে জানাযায়,চলতি বছর উপজেলার ১ হাজার ২শত ৮ হেক্টর জমিতে গ্রীস্মকালীন শাক-সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বারোবাজার কাস্টভাঙ্গা রাখালগাছি ও মালিয়াট ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি চায হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজি। উল্লেখ্য উপজেলার সৈয়দপুর, কাস্টভাঙ্গা , মোল্লাডাঙ্গা্, বহিরগাছী, এনায়েতপুর , সাতগাছিয়া , মাশলিয়া , ফুলবাড়ী , মহিষাহাটি , সানবান্দা , শিমলা , বেলেডাঙ্গা , মনোহরপুর । মালিয়াট ,গ্রামে গ্রীষ্মকালীন সবজি চোখে পড়ার মত। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজির ভাল ফলন হয়েছে। মহিষাহাটি গ্রামের চাষী শাখায়াত হোসেন জানান, এবছর আমি ২০ শতাংশ জমিতে চিচিংগা ও চালকুমড়া চাষ করেছি।এতে প্রায় ১৫ হাজারের মতো খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত ৪০ টাকা বিক্রি করেছি।বাজারে এখন যে দাম রয়েছে তাতে আরো ২০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এতে যে টাকা বিক্রি হবে লাভবান হব। এছাড়া আমার একই বানের নিচে সিম গাছ লাগিয়েছি কয়েক দিনের মধ্যে চিচিঙ্গা ও চাল কুমড়া গাছ কেটে সিম গাছ বানে উঠিয়ে দিব।এতে আমার খরচ অনেক কমে যাবে। আগাম শিম বাজারে উঠাতে পারলে বেশি দামে বিক্রি করতে পারব। ফুলবাড়ী গ্রামের মহিদুল জানান,আমরাও অন্য ফসলের তুলনায় কাকরোল চাষ অধিক লাভজনক আমি ২০শতাংশ জমিতে চাষ করেছি।জমি থেকেই পাইকারী ক্রেতারা কাকরোল কিনে নিয়ে যাচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা দরে।বানের নিচে সিম গাছ লাগিয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন , কম খরচে লাভ বেশী হওয়াই এই এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে গ্রীস্মকালীন সবজি চাষ বাড়ছে।আমরা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার, কীটনাশক কখন-কিভাবে ব্যবহার করতে হবে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।