
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং আতংকে সাধারণ মানুষ !
কুমিল্লায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। নগর, উপজেলা সদর, গ্রাম সর্বোত্র কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। গ্যাং লিডাররা সাইলেন্সারবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে মহড়া দেয়। এতে বিকট আওয়াজে শব্দদূষণের পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিশোর গ্যাং সদস্যরা তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মারামারিতে জড়ায়। বখাটেপনার পাশাপাশি তারা মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত। সম্প্রতি জেলা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন কিশোর গ্যায়ের ১২৫ সদস্য গ্রেফতার হলেও কমেনি তাদের তৎপরতা। বরং তাদের অপকর্ম দিনদিন বাড়ছে।বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের হাতে কাগজপত্রবিহীন বিপুলসংখ্যক চোরাই মোটরসাইকেল রয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে আছে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রত্যেকের হাতে দামি ব্র্যান্ডের মোবাইল। মোটরসাইকেল ও অস্ত্র নিয়ে তারা নানা অপরাধ করে চলেছে। ২ জুন ইলিটগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের জাহাপুর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কিশোর গ্যাং চক্রের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আশ্রাফ আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। পরদিন নগরীর অশোতলা এলাকায় এক ভিক্ষুককে কুপিয়ে ১৬০ টাকা ছিনিয়ে নেয় কিশোর গ্যাং লিডার টোকাই সামির। বৃহস্পতিবার কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। নগরীর ঈদগাহ মোড়, কাপ্তান বাজার, গোমতী বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক কিশোর গ্যাং সাইলেন্সারবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে রেসিং করে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি সেতু, টোলপ্লাজা, শহীদনগর, হাসানপুর, গৌরীপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং চক্রের নিয়মিত মোটরসাইকেল রেসিং চলে। এতে লোকজনের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তথা নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। জেলার দেবিদ্বার পৌরসভার ভিংলাবাড়ী পান্নারপুল ছোট আলমপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং চক্রের তৎপরতা রয়েছে। সেখানেও বেশকিছু সাইলেন্সারবিহীন মোটরসাইকেল দেখা গেছে।মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত নতুন সড়ক এখন কিশোর গ্যাং চক্রের দখলে। সড়কটিকে কিশোর গ্যাংয়ের হাব বলা হয়ে থাকে। এ কারণে সড়কে চলাচলকারীরা আতঙ্কে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি সাইলেন্সারবিহীন মোটরসাইকেল এখানে রেসিংয়ে অংশগ্রহণ করে। শুশুন্ডা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দলে দলে কিশোর গ্যাং সদস্যরা এই সড়কে মহড়া দেয়। তাদের ভয়ে আমরা কথা বলি না।’ পায়ব এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেকটা মোটরসাইকেল সাইলেন্সারবিহীন। এগুলোর বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’ কুমিল্লা নাগরিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা এমরান বলেন, ‘সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। তাদের দমনে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, ‘আমরা গ্যাং কালচার দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতঃপূর্বে আমাদের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ১২৫ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। গ্যাং চক্র দমনে পুলিশ সুপার মহোদয় অত্যন্ত সিরিয়াস।