
নওগাঁয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফসল নষ্টের অভিযোগ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের জোলাপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে ৬ কাঠা জমির ফসল কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল নওগাঁ সদর উপজেলার ইলশাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জোলাপাড়া গ্রামের প্রবাসী মোজাম্মেল হকের স্ত্রী জোৎস্না বেগমের সঙ্গে ৬ কাঠা জমি বিক্রির জন্য নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন মোস্তফা কামাল। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল বদলগাছী রেজিস্ট্রি অফিসে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তিনি। জমির খারিজ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে চুক্তি অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা কম নিয়ে জমি বুঝিয়ে দেন এবং বাকি টাকা রেজিস্ট্রির সময় নেওয়ার কথা জানান। থেকে জোৎস্না বেগম জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। ২০২৩ সালে নিজ খরচে জমির খারিজ সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বললে অভিযুক্ত শিক্ষক নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ৯ মে আদালতে মামলা করেন জোৎস্না বেগম। ওই মামলায় মোস্তফা কামালকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৫ মে বেলা আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে মোস্তফা কামাল ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে গিয়ে ফসল কেটে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন।ভুক্তভোগী জোৎস্না বেগম বলেন, টাকা নেওয়ার পর থেকে জমি আমার দখলে রয়েছে। এখন তিনি জমি রেজিস্ট্রি না করে উল্টো ফসল নষ্ট করছেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন, এই সুযোগে তিনি সন্ত্রাসী নিয়ে এসে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।এলাকাবাসী বুলবুল বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ অনেক দিন ধরেই চলছে। টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে এখন অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন-এটা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে কাম্য নয়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।