শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ঘোড়াঘাটে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বোচাগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কবিতা/শিক্ষার পরিচয়/লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন! বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়া ৩ কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে ৪ দিন পর উদ্ধার “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস” উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ  দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে —জহির উদ্দিন স্বপন টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন! কালাইয়ে সমবায়ীদের অংশগ্রহণে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈধ কয়লা কারখানায় দিন-রাত পুড়ছে কাঠ: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য !

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬



গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈধ কয়লা কারখানায় দিন-রাত পুড়ছে কাঠ: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য !

আব্দুল মুনতাকিন জুয়েল,গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ী ও কিংকরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে অবৈধ কয়লা উৎপাদন। স্থানীয় একাধিক সিন্ডিকেট অন্তত ৩০টি চুল্লিতে দিন-রাত প্রকাশ্যে বনের কাঠ ও খড়ি পুড়িয়ে এই কয়লা তৈরি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্বিচারে গাছ কেটে বনাঞ্চল উজাড় করা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য। ​সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছে মাটির তৈরি বিশালাকার কয়লা পোড়ানোর চুল্লি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি চুল্লিতে এক দফায় আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বাতাসে পোড়া কাঠের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ৫-৭ বছর ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে। ২০২৫ সালে সেনাবাহিনীর একটি অভিযানে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কিছুদিন পর প্রভাবশালী চক্রটি আবারও উৎপাদন শুরু করে। রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করার সাহস পান না। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিংকরপুর গ্রামের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কারখানার মালিকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। স্থানীয় কিছু নেতার সঙ্গে তাদের গভীর সখ্য থাকায় আমরা প্রতিবাদ করতে ভয় পাই। কেউ কথা বললেই ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হতে হয়।” ​পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, এভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে কয়লা তৈরির ফলে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া, ছাই ও ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা পড়ায় আশপাশের ফসলি জমির ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ​এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবির জানান, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর মনিটরিং করছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ​ভবিষ্যতের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচতে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই অবৈধ কয়লা কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews