সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগো উন্মোচন ও অভিষেক বাউফলে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ফেনী মুহুরী লিও ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালের ১ বছরের সাফল্য! রহনপুর মেডিকেল মোড়ে ভোক্তা অধিকারের কঠোর অভিযান! পাওনা টা’কা নিয়ে বিরোধ, ভাইয়ের বি’রুদ্ধে বোনকে হত্যার অভিযোগ! সিলেট জুড়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং লাগামহীন, অতিষ্ঠ জনজীবন! দিনাজপুরে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের নবনির্বাচিত কমিটির মতবিনিময় গোমস্তাপুরে বোয়ালিয়া ইউপি গেটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ! গাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈধ কয়লা কারখানায় দিন-রাত পুড়ছে কাঠ: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য !

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬



গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈধ কয়লা কারখানায় দিন-রাত পুড়ছে কাঠ: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য !

আব্দুল মুনতাকিন জুয়েল,গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ী ও কিংকরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে অবৈধ কয়লা উৎপাদন। স্থানীয় একাধিক সিন্ডিকেট অন্তত ৩০টি চুল্লিতে দিন-রাত প্রকাশ্যে বনের কাঠ ও খড়ি পুড়িয়ে এই কয়লা তৈরি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্বিচারে গাছ কেটে বনাঞ্চল উজাড় করা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য। ​সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছে মাটির তৈরি বিশালাকার কয়লা পোড়ানোর চুল্লি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি চুল্লিতে এক দফায় আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বাতাসে পোড়া কাঠের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ৫-৭ বছর ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে। ২০২৫ সালে সেনাবাহিনীর একটি অভিযানে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কিছুদিন পর প্রভাবশালী চক্রটি আবারও উৎপাদন শুরু করে। রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করার সাহস পান না। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিংকরপুর গ্রামের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কারখানার মালিকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। স্থানীয় কিছু নেতার সঙ্গে তাদের গভীর সখ্য থাকায় আমরা প্রতিবাদ করতে ভয় পাই। কেউ কথা বললেই ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হতে হয়।” ​পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, এভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে কয়লা তৈরির ফলে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া, ছাই ও ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা পড়ায় আশপাশের ফসলি জমির ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ​এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবির জানান, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর মনিটরিং করছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ​ভবিষ্যতের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচতে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই অবৈধ কয়লা কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews