রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
দিনাজপুরে “বউ মেলা” জীবনসঙ্গী খুঁজতে আসবেন আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা! শিক্ষিত বেকার বাড়ছে:  কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি! সাঘাটায় তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম! কবিতা/আত্মোপলব্ধি /আসাদুজ্জামান খান মুকুল কালিহাতীর বল্লা হাটে পরিচ্ছন্নতা  অভিযান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে —জহির উদ্দিন স্বপন বান্দরবানের লামা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনা সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন এমপি নুরুল দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

মেঘনার ছয় অভয়াশ্রমে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে জেলেরা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬




জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল — এই দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর ছয়টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার এলাকা থেকে চাঁদপুরের ঘাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল অঞ্চলের মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, ইলিশা, তেঁতুলিয়া, কীর্তনখোলা, সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীতেও একই সময়সীমায় মাছ ধরা ও জাল ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে টানা দুই মাস আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি সরকারি খাদ্য সহায়তা বা ভিজিএফ অপর্যাপ্ত এবং বণ্টন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রয়েছে বলেও জেলেরা অভিযোগ করেছেন।
কমলনগর উপজেলার মতিরহাট মাছঘাট এলাকার জেলে আবদুর মজিদ ও সফিক জানান, আইন মেনে চললেও নদীতে অভিযানের সময় তারা মাঝেমধ্যে হয়রানির শিকার হন। তারা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা আমরা মানি। কিন্তু নদীতে নামলেই নানা হয়রানির অভিযোগ আছে। রোজার সময় আয় না থাকায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ঈদ সামনে — কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।’ দীর্ঘদিন মাছ ধরেও এখন পর্যন্ত ভিজিএফ কার্ড না পাওয়ার কথাও জানান তারা।
সরকারিভাবে মাসে ৪০ কেজি হারে চার ধাপে মোট ১৬০ কেজি চাল দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। তবে জেলেদের মতে, সংসারের দৈনন্দিন ব্যয়ের তুলনায় এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪৯ জন। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৬০টি পরিবারকে ৪ হাজার ৬৪৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে চার মাস ধরে ৪০ কেজি হারে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কমলনগর উপজেলায় ১৩০ টন চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। উৎপাদন বাড়াতে ও জাটকা রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসার ও জেলে প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে জেলেরাই এর সুফল পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও টানা দুই মাসের কর্মহীন সময় কীভাবে পার করবেন, সেই উদ্বেগ নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় জেলেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews