বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সাতক্ষীরায় পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন  গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন  রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ৩ গোবিন্দগঞ্জে বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধ গ্রেফতার  ! প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনুপস্থিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিশেষ সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সিরাজগঞ্জে ১,৬৭১টি সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন নগরের খেলার মাঠ ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী স্কুল পরিষ্কার রাখতে শিশুদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর জেলা পরিষদের আয়োজনে উন্নয়নমূলক কাজের ২৫ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর এসডি থাকা ১০১ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বণ্টন !

অন্তরা’র ৪১তম বর্ষপূর্তিতে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক সংগীতানুষ্ঠান

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫

চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এমন অনেক সন্ধ্যা এসেছে, আবার মিলিয়ে গেছে অচিরেই। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৬ই মে, শুক্রবার সন্ধ্যা ছিল একেবারে ব্যতিক্রম—স্মরণীয়, হৃদয়গ্রাহী এবং সুরভিত।
আমরা, চাটগাঁইয়া নওজোয়ানের প্রতিনিধিদলসহ, ‘অন্তরা হাওয়াইয়ান গিটার শিল্পী গোষ্ঠী’র আয়োজনে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে প্রত্যক্ষ করলাম এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান যখন শুরু হয়, মিলনায়তনের ভেতর তখন সুশৃঙ্খল অথচ হৃদয় উত্তাল এক আবহ। আসন পূর্ণ দর্শকে, অতিথিদের সম্ভাষণে, ফুলেল শুভেচ্ছায় এবং সুরের প্রতীক্ষায় সাজানো সেই পরিমণ্ডল যেন এক সুরভিত উপবন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল আলোচনা পর্ব, যেখানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা থাকলেও কিন্তু আসেননি তিনি।
বিশেষ বক্তা জনাব রিয়াজ ওয়াহেদ সংগীত ও সাহিত্যের সম্পর্ক নিয়ে যেভাবে গভীর আলোচনা করলেন, তাতে শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শুনেছেন। সভাপতি ডা. বাবুল কান্তি সেনগুপ্ত যে আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে অনুষ্ঠানে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা ছিল দেখার মতো। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে আসল যাদু তৈরি হয় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে, যখন হাওয়াইয়ান গিটারের সুরে ভেসে উঠল পুরো মিলনায়তন। সুর যেন থইথই এক নদী, আর আমরা শ্রোতারা সেই নদীর জলে অবগাহন করছি। গিটার বাজানোর ভঙ্গিমা, বাদকের নিবেদন, প্রতিটি তারে প্রাণের ছোঁয়া—সব মিলিয়ে সে এক মোহনীয় অভিজ্ঞতা।
আর এই সুরের ঢেউয়ে ভেসে এলো নৃত্য। যে নৃত্যশিল্পীরা মঞ্চে উঠলেন, তাঁদের প্রতিটি অভিব্যক্তি, প্রতিটি গতিময়তা যেন মিশে গেল গিটারের সুরে। কখনো আবেগে, কখনো অভিপ্রায়ে, কখনো নিঃশব্দ চোখের ভাষায়—তাঁদের নৃত্য যেন জীবন্ত কবিতা হয়ে ফুটে উঠল।
আমরা যারা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সুর ও সাহিত্যের মেলবন্ধনের স্বপ্ন দেখি, তাঁদের জন্য এই আয়োজন ছিল এক স্বপ্নপূরণ।
আমাদের প্রতিনিধি দল সহ অন্যান্য অতিথিরা আয়োজকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি, কিন্তু সে ছিল শুধু একটি প্রতীক—আসলে আমরা আমাদের হৃদয় দিয়ে তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।
‘অন্তরা’ শুধু একটি সংগীত সংগঠন নয়—এটি এক সুর-চর্চার মহীরুহ। গত ৪১ বছর ধরে তারা যে ধৈর্য, নিষ্ঠা ও ভালোবাসা নিয়ে হাওয়াইয়ান গিটারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তা এক বিশাল দায়িত্ব।
এই দীর্ঘ পথচলার মাইলফলকে দাঁড়িয়ে আমরা যারা উপস্থিত ছিলাম, আমরা বুঝতে পারি—এমন আয়োজন শুধু উৎসব নয়, এটি চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সঙ্গীতের এক নবজন্ম।
এই আয়োজনকে সফল করে তুলেছেন যাঁরা, তাঁদের নাম উচ্চারণ না করলেই নয়—সভাপতি ডা. বাবুল কান্তি সেনগুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য এবং বর্ষপূর্তি উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ইলিয়াস ইলুর নেতৃত্বেই ‘অন্তরা’র এই আনন্দানুষ্ঠান এক মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। শেষ কথা একটাই—এই সন্ধ্যা শুধু স্মরণীয় নয়, এটি ছিল হৃদয়ে গেঁথে থাকার মতো এক মূহূর্ত। ‘অন্তরা’র এই ৪১তম বর্ষপূর্তির আয়োজন একটাই প্রমাণ করে—চট্টগ্রামের শিল্পচর্চা এখনো জীবন্ত, তাজা এবং সুরে-বন্দি ভালোবাসায় ভরপুর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews