
সম্পত্তি লিখে দিতে অস্বীকার করায় বাবাকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাবাকে ঘরে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগী মনাজির খান (৭৯) রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন দক্ষিনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ১৮ আগস্ট সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে থাকার সময় বড় ছেলে খোরশেদ আলম (৪৫) হঠাৎ লোহার চেয়ার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয় এবং এক আঙুলের নখ তুলে ফেলার কারণে মারাত্মক জখম হন।এরপর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।মনাজির খান অভিযোগ করেন, বাজারের দোকানঘর (মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা) ও ফ্ল্যাট (মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা) লিখে দেওয়ার জন্য তার বড় ছেলে খোরশেদ আলম, ছোট ছেলে সানি (৩০), স্ত্রী হামিদা বেগম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা একযোগে তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। লিখে না দেওয়ায় গত এক মাস ধরে তাকে ঘরে বন্দি করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে গলায় দড়ি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাজার কমিটির সভাপতির পদ থেকেও ষড়যন্ত্র করে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মনাজির খানের উপর নির্যাতন চলছিল। প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও ইটপাটকেল ছুড়ে আহত করা হয়।কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসআই সাগর বলেন, “জন্মদাতা পিতাকে এভাবে অমানবিক নির্যাতন করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”