বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে রহনপুরে ‘A+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২৬’ সম্পন্ন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এলাকা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ! বান্দরবানে ইয়াবাসহ এগার মাদক মামলার আসামি গ্রেফতার সাইবার অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের ক্ষোভ: দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন: অন্ধকার পৃথিবীতে আলোর জাগরণ জলতরঙ্গ পয়েন্টে মর্মান্তিক ঘঠনা; সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, খোঁজ মিলছে না সঙ্গীর, চকবাজারে ২০ ইয়াবা সহ ২জন গ্রেফতার মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে আইনজীবীর সংবাদ সম্মেলন কবি আল মুজাহিদী স্মৃতি পদক পেলেন লায়ন গনি মিয়া বাবুল বানিজ‍্য মেলার নামে চলছে রমরমাট জুয়ার ব‍্যবসা,প্রশাসনের নিরব ভুমিকায় জনমনে প্রশ্ন!

টানা চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইনস্পেক্টর নির্বাচিত হলেন লোহাগাড়ার গর্ব মোঃ হাসানুজ্জামান হায়দার

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫

চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া ট্রাফিক জোনের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (টিআই) মোঃ হাসানুজ্জামান হায়দার আবারও প্রমাণ করলেন যে সততা, পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার থাকলে যেকোনো দায়িত্বই সাফল্যের মাইলফলকে পৌঁছাতে পারে।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জুন মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় টানা চতুর্থবারের মতো তাকে চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইনস্পেক্টর হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এ উপলক্ষে জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম-বার তার হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।
দৃঢ় নেতৃত্বে বদলে যাওয়া লোহাগাড়া
টিআই হায়দার লোহাগাড়ায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি যেভাবে কাজ করেছেন, তা এখন জেলার মধ্যে প্রশংসিত একটি দৃষ্টান্ত।
প্রতি মাসে রেকর্ড সংখ্যক মামলা দিয়ে তিনি ট্রাফিক আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করেছেন। তিনি নিয়মিতভাবে রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন, রোড পারমিট ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালক ও অন্যান্য নিয়মভঙ্গকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছেন।
জনসচেতনতা ও মানবিকতা—দুইই তাঁর হাতে একসাথে
আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি টিআই হায়দার জনসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, বাসস্ট্যান্ডে, চালকদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার জন্য লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও ট্রাফিক সপ্তাহ পালনসহ নানা কার্যক্রমে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন—শুধু মামলা নয়, মানুষকে সচেতন করেও ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সড়কে দায়িত্ব পালনের সময় অসুস্থ বা বিপদে পড়া পথচারী কিংবা চালকদের পাশে দাঁড়ানো, ছোটখাটো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা শিশুদের নিরাপদ পারাপারে সহায়তা করা—এসব কাজেও তাঁকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর তাঁর অনুভূতি
পুরস্কার গ্রহণের পর টিআই হাসানুজ্জামান হায়দার বলেন,
“এই সম্মান আমার একার নয়, এটি লোহাগাড়ার প্রতিটি সৎ ট্রাফিক সদস্য, পুলিশ সহকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন জনসাধারণের সম্মিলিত অর্জন। যতদিন দায়িত্বে থাকব, জনগণের কল্যাণে কাজ করব, অবৈধ যানবাহন ও সড়কে বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকব।”
তিনি আরও বলেন,
“সড়ক যেন মৃত্যুর ফাঁদ না হয়, বরং নিরাপদ যাত্রার পথ হয়—এই লক্ষ্যে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব। লোহাগাড়ার প্রতিটি নাগরিক যেন নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারে, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য।”
পুলিশের গৌরব এবং তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রশাসনের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, টিআই হায়দারের মতো অফিসাররা পুলিশ বাহিনীর গর্ব। তাঁর কাজের ধারা অন্যান্য ট্রাফিক জোনে কর্মরত অফিসারদের জন্য অনুকরণীয়।
সাধারণ মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাঁর এই পুরস্কারপ্রাপ্তিকে আনন্দ ও গর্বের সাথে গ্রহণ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, “তিনি শুধু ট্রাফিক ইনস্পেক্টর নন, তিনি লোহাগাড়ার মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।” এই লেখাটি তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালনের এক জীবন্ত দলিল। এ ধরনের অফিসারদের কাজে স্বীকৃতি ও উৎসাহ দেওয়া যেমন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, তেমনি তাঁদের আদর্শ ও পদ্ধতি ভবিষ্যৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠুক—এটাই সবার কামনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews