মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই জৈন্তাপুর মডেল থানার জিয়াউর রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান বর্তমান সরকার কোনভাবেই মব সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেবেনা : হুইপ জি কে গউছ সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার ব্যাপক প্রস্তুতি, কঠোর নিরাপত্তা ঘোড়াঘাটে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে   দীঘিনালায় একই দিনে ছয় কর্মকর্তার বদলি ও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা রাজশাহীতে কমছে পদ্মা নদীর পানি, তীর ভাঙনের শঙ্কা! মেঘনায় ১৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ! কালীগঞ্জে এনসিপি নেতার বিররুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা! সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের চিত্র-এমপি-ফজলূল হক মিলন

কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬



কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশের কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ও লালনসম্রাজ্ঞীখ্যাত ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬) রাত আটটায় কুষ্টিয়া শহর সংলগ্ন কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়ায় লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে স্মরণ সভা ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই কিংবদন্তি শিল্পীকে স্মরণ করা হয়।

লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম ডালিমের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, লেখক ও কলামিস্ট নূর মোহাম্মদ রবিউল, লালন গবেষক ও লেখক এস. এস. রুশদী, আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাংস্কৃতিক সংগঠক শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সংগীতশিল্পী জাহাঙ্গীর আলী খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক লালন সংগীতশিল্পী আসলাম বাউল।

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, ফরিদা পারভীন শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, লালনগীতি ও বাঙালির লোকজ দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচারকও ছিলেন। তাঁর কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের গান দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। লালনের মানবতাবাদ, জীবনবোধ ও দর্শনকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।

বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীন (৩১ ডিসেম্বর ১৯৫৪ – ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫) নাটোরের সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশব বেড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তার সংগীতজীবন শুরু হয়। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে তিনি লালনের বাণী ও সুর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর গাওয়া লালনের গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও জনপ্রিয়তা পায়। গানের টানে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে।

সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। ১৯৯৩ সালে অন্ধ প্রেম চলচ্চিত্রের নিন্দার কাঁটা গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকার সম্মান পান। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। শুধু গান গাওয়াই নয়, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে লোকসংগীত ও লালনগীতি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন ফরিদা পারভীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews