
ফুটপাত উচ্ছেদ নয়, মানবিক পুনর্বাসনই হোক সমাধান
অর্ণব রায়,
রাজধানী ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, যানজট কমানো এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়তে আইন প্রয়োগ অবশ্যই জরুরি। তবে সেই আইন প্রয়োগ যেন মানুষের জীবন-জীবিকার প্রতি নির্মম না হয়ে ওঠে এ বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ছোট ছোট অস্থায়ী ফুটপাতের দোকান কোনো বিলাসিতা নয়; বরং হাজারো নিম্নআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। প্রতিটি দোকানের পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, সন্তানের পড়াশোনা, বৃদ্ধ মা-বাবার ওষুধের খরচ এবং প্রতিদিনের খাবারের নিশ্চয়তা।
সম্প্রতি রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে বহু অস্থায়ী দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য পরিবার এক মুহূর্তেই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়েছে। আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কিন্তু জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এমন উচ্ছেদ নিঃসন্দেহে মানবিক প্রশ্নেরও জন্ম দেয়।
রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রান্তিক মানুষও অনুভব করতে পারে। তাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পিত পুনর্বাসন, নির্ধারিত হকার জোন, সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি।
বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং কিছু মানুষ অপরাধের পথে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন দূরদর্শী, বাস্তবসম্মত এবং মানবিক নীতি।
আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেই দায়িত্ব শেষ করবে না; বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেবে। একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় কেবল আইন প্রয়োগে নয়, বরং দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণেও প্রকাশ পায়। মানবিক পুনর্বাসনই হতে পারে সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা ও মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য।