বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সোনাইমুড়িতে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে ১জন নিহত ! দীঘিনালায় বন্যার্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনী, আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য বিতরণ ! পীরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দলিল নিবন্ধন  নতুন ভবন নির্মাণের দাবি ! জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়ে বিপাকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, জাল কাগজে জমি খারিজের অভিযোগ সোনারগাঁ জামপুর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গ্রেফতার ! কালিহাতীতে কেন্দ্রীয় সাধু সংঘে “সাধু ফল সেবা দিবস-২০২৬” উপলক্ষে মতবিনিময় সভা  ! চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ  বন্যা, ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি ! ইনার হুইল ক্লাব অব ঢাকা মেট্রোর নতুন নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ! পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করি

পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করি

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করি
–সুমাইয়া আক্তার

       “দাও ফিরে সেঅরণ্য, লও এ নগর, লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠও প্রস্তরহে নব সভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়া রাশি…”

শতবর্ষ আগে কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের লেখা কবিতা আজও অস্বীকার করবার উপায় নেই।বহু বছর আগে যান্ত্রিক সভ্যতা পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষা করেই মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে ছিলো।বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য দিনের শুরুতে কার্বন নিঃসরণ দিয়ে ঘুমোতে যাবার আগ পর্যন্ত সেটি বহাল রেখে পরের দিনটি শুরু হয়।মানব সভ্যতার উন্নতির বিপরীতে আমরা ধ্বসং করছি আমাদের প্রজন্মের সোনালী ভবিষ্যত যা হয়তো কিছু দিনের মধ্যে আমাদের কঠিন ভাবনায় ফেলবে।

পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য আমাদের কিছু দায়িত্ব, সচেতনতাবোধ থাকতে হবে। আমাদের প্রয়োজনে প্রকৃতি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। একবার ভাবুনতো, যে পরিবেশ ও প্রকৃতি আমাদের সবই উজার করে দিয়েছে সেটি রক্ষায় আমরা কি করছি? কেন করছিনা ? আমাদের এখনি সচেতন হতে হবে।প্রয়োজনের বাইরে পরিবেশের সামান্যতম ক্ষতি করা যাবেনা।প্রজন্মকে বোঝাতে ও শেখাতে হবে কী করে নিজের বাঁচার তাগিদে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে।অধিকাংশের খুবই বাজে স্বভাব হলো দাঁতব্রাশ কিংবা গোসলের সময় পানির অপচয় করা, ম্যাচের কাঠির খরচ বাঁচাতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা ও কাপড় শুকানোর জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা, কিংবা অযথা লাইট, ফ্যান, এসি চালু রাখা। সম্পদের এই যথেচ্ছা ব্যবহার পরিবেশের ক্ষতি করে।

পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় আমরা নিজেরা ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি। যেমন- প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার না করে পাটের ব্যাগ অথবা কাপড়ের ব্যাগ (ধুঁয়ে পরিস্কার করে কয়েক বার) ব্যবহার করা, প্রয়োজনে গাছ কাটা পড়লে একটির বিপরীতে ৫টি করে গাছ লাগানো, প্রয়োজনের বাইরে এক মিনিট ও বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ অপচয় না করা,যান্ত্রিক পরিবহন এড়িয়ে ট্রেন, ইলেকট্রিক যানবাহন, বাই সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোসহ অল্প দূরত্বে হেঁটে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা ইত্যাদি।এসবের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার কাজ এক্ষুনি শুরু করতে হবে।আমাদের নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে আমরা খুব সহজেই কিছুটা হলেও আমাদের বাসযোপ্য পৃথিবীকে বাঁচাতেপারি।আমরা পরিবেশ দূষণে প্রতিদিন যে ভুলগুলো করি সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে, আসার মানষিকতা তৈরি করতে হবে। সুনাগরিকের গুনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিকরা এবং পরিবেশ রক্ষায় অন্যকে উৎসাহিত করা। আমাদের ছোট খাটো ভুল গুলো ছুড়ে ফেললে পৃথিবী এবং প্রকৃতি আরো সুন্দর হবে।গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের বাঁচার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। অক্সিজেনের ভান্ডার হলো প্রকৃতির গাছপালা। ইট পাথরের নগরীতে গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে, যত্ন নিতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছের যত্ন নিতে হবে। আমাদের অনেক প্রয়োজনেই গাছ কাটতে হয়, কিন্তু একটা গাছ কাটলে যে ঘাটতি হবেতা অপূরণীয়। তাই এর বিপরীতে বেশি করে গাছ লাগাতেও হবে। বৃক্ষরোপণ অভিযানে তরুণ সমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে।একদিকে পৃথিবীর অগণিত মানুষ সুপেয় পানির অভাবে হাহাকার করছে, অন্যদিকে আরেক দল অবিবেচক মানুষ পানির অপচয় করেই যাচ্ছে। প্রকৃতির আশীর্বাদ এভাবেই ধ্বংস করে ফেলছি আমরা।এতে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদগুলো কেবল বিনষ্টই হচ্ছে।এগুলো প্রয়োজনের বাইরে ব্যবহার করবেন না। এতে করে সম্পদের যেমন সাশ্রয় হবে, ঠিক তেমনই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। এগুলো ছাড়াও যত্র তত্র ময়লা, মানববর্জ্য, প্রাণীবর্জ্য, কেমিক্যালবর্জ্য, ইলেকট্রনিকবর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা,পলিথিন বা অপচনশীল পণ্য-বর্জ্য পুড়িয়ে কালো ধোঁয়া ছড়ানো, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় করা- এসব কাজ পরিবেশ ও প্রকৃতি বিরুদ্ধ। যে প্রকৃতি তার সমস্ত রত্নভান্ডার উজাড় করে আমাদের সকল প্রয়োজন পূর্ণ করেছে আমরা কী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবো না ? তাই মানুষ হিসেবে অন্তত: আমাদেরও উচিৎ প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এতেপরিবেশ,প্রকৃতি ও প্রাণ সবই রক্ষা পাবে।

লেখক: বিএসএস (সম্মান), এমএসএস(অর্থনীতি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
e-mail:sumaiyakanok97@gmail.com

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews