1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
পায়ুপথের রোগ: নীরব কষ্টের কারণ ও প্রতিরোধের দিকনির্দেশনা ! - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কুমিল্লায় সাবেক এমপি বাহারসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা ! শরীয়তপুরে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ! গোবিন্দগঞ্জে চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতি,জড়িত গ্রেফতার- ৩ ! কালীগঞ্জে বসত বাড়ীতে হামলা করে স্বর্ণালংকারসহ ২৫ লাখ ! শরীয়তপুরে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত ! নরসিংদীতে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ! পায়ুপথের রোগ: নীরব কষ্টের কারণ ও প্রতিরোধের দিকনির্দেশনা ! আংগারিয়া ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ খলিলুর রহমান (খলিল মোল্লা) । ইসলামী ব্যাংকের  চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবীতে নীলফামারীতে অবস্থান কর্মসূচী ! কুমিল্লায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা: গ্রেপ্তার ৩ !

পায়ুপথের রোগ: নীরব কষ্টের কারণ ও প্রতিরোধের দিকনির্দেশনা !

ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

পায়ুপথের রোগ: নীরব কষ্টের কারণ ও প্রতিরোধের দিকনির্দেশনা !

পায়ুপথের (মলদ্বার) রোগ বিশ্বব্যাপী একটি সাধারণ অথচ অবহেলিত স্বাস্থ্যসমস্যা। অর্শ বা পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা, পেরিয়ানাল অ্যাবসেস, রেকটাল প্রোলাপস এবং পায়ুপথের ক্যান্সারের মতো রোগে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পাইলসের উপসর্গ অনুভব করেন। তবে লজ্জা, সংকোচ, কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাবে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নেন না। ফলে সাধারণ সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল রোগে পরিণত হতে পারে। পায়ুপথের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য। শক্ত মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ফলে পায়ুপথের শিরা, মাংসপেশি ও টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান না করা, আঁশযুক্ত খাবারের অভাব, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, বারবার ডায়রিয়া, সংক্রমণ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। আধুনিক জীবনযাত্রায় ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়াও এ সমস্যার বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। পুরুষদের মধ্যে ঝুঁকি পুরুষদের মধ্যে পাইলস, ফিস্টুলা ও পেরিয়ানাল অ্যাবসেস তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। দীর্ঘসময় অফিসে বসে কাজ করা, ভারী ওজন বহন, ধূমপান, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য এ ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক পুরুষ ব্যথা বা রক্তপাতকে গুরুত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন অবহেলা করেন, ফলে রোগ জটিল হয়ে পড়ে। প্রধান লক্ষণ * মলত্যাগের সময় ব্যথা* রক্তপাত * পায়ুপথে ফোলাভাব * পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল নির্গমন * বসতে বা হাঁটতে অস্বস্তি * সময়ে চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী ফিস্টুলা এবং রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নারীদের মধ্যে ঝুঁকি নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা ও প্রসবজনিত কারণে পায়ুপথের রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। গর্ভকালীন সময়ে জরায়ুর অতিরিক্ত চাপ এবং হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে পায়ুপথের শিরাগুলো ফুলে যেতে পারে। অনেক নারী গর্ভাবস্থায় বা সন্তান জন্মদানের পর পাইলসের সমস্যায় আক্রান্ত হন। প্রধান লক্ষণ * মলত্যাগে ব্যথা * রক্তপাত * চুলকানি ও জ্বালাপোড়া * পায়ুপথে মাংসপিণ্ড অনুভব * অস্বস্তি ও ভারী ভাব চিকিৎসা না নিলে দীর্ঘস্থায়ী অর্শ, রক্তশূন্যতা এবং কিছু ক্ষেত্রে রেকটাল প্রোলাপসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং এনাল ফিশার। পর্যাপ্ত পানি পান না করা, আঁশযুক্ত খাবারের অভাব এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এর প্রধান কারণ। অনেক শিশু শক্ত মলের কারণে ব্যথা অনুভব করে এবং পরে টয়লেটে যেতে ভয় পায়, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রধান লক্ষণ * মলত্যাগের সময় কান্না* মলের সঙ্গে রক্তের দাগ * টয়লেটে যেতে ভয় পাওয়া * পায়ুপথে ব্যথা অভিভাবকদের উচিত এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। পায়ুপথের রোগের প্রধান প্রকারভেদ * অর্শ বা পাইলস: পায়ুপথের শিরা ফুলে গেলে পাইলস হয়। এটি অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হতে পারে। মলত্যাগের সময় রক্তপাত এর অন্যতম লক্ষণ। * এনাল ফিশার: পায়ুপথের ত্বকে ক্ষুদ্র ফাটল সৃষ্টি হলে তাকে ফিশার বলা হয়। এটি অত্যন্ত ব্যথাদায়ক এবং মলত্যাগের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। * এনাল ফিস্টুলা: পায়ুপথের ভেতর ও বাইরের অংশের মধ্যে অস্বাভাবিক নালী তৈরি হলে তাকে ফিস্টুলা বলা হয়। সাধারণত সংক্রমণ বা অ্যাবসেসের জটিলতা হিসেবে এটি দেখা দেয়। * পেরিয়ানাল অ্যাবসেস: সংক্রমণের কারণে পায়ুপথের চারপাশে পুঁজ জমে ফোঁড়া তৈরি হলে তাকে অ্যাবসেস বলা হয়। এতে তীব্র ব্যথা, জ্বর ও ফোলাভাব হতে পারে। * রেকটাল প্রোলাপস: মলদ্বারের ভেতরের অংশ বাইরে বের হয়ে আসাকে রেকটাল প্রোলাপস বলা হয়। এটি সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তি ও বহুবার সন্তান প্রসবকারী নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। * পায়ুপথের ক্যান্সার: তুলনামূলক বিরল হলেও এটি একটি গুরুতর রোগ। দীর্ঘদিন রক্তপাত, অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন হলে দ্রুত পরীক্ষা প্রয়োজন। সাধারণ লক্ষণ পায়ুপথের বিভিন্ন রোগে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়— * মলত্যাগের সময় ব্যথা * রক্তপাত * চুলকানি ও জ্বালাপোড়া * ফোলাভাব * পুঁজ নির্গমন * মলত্যাগে কষ্ট * পায়ুপথে মাংসপিণ্ড অনুভব * দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি রোগ নির্ণয় বর্তমানে পায়ুপথের রোগ নির্ণয়ের জন্য শারীরিক পরীক্ষা, ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন, অ্যানোস্কোপি, সিগময়ডোস্কোপি বা কোলোনোস্কোপির মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হয়।  জটিলতা চিকিৎসা না নিলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন— * দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা * রক্তস্বল্পতা * সংক্রমণ ও পুঁজ জমা * ফিস্টুলা সৃষ্টি * মল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা * কর্মক্ষমতা হ্রাস * জীবনমানের অবনতি কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর রোগ শনাক্তে বিলম্ব হলে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। ঘরোয়া পরিচর্যা ও প্রতিরোধ পায়ুপথের রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে মল নরম থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। ২. আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন: শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং পূর্ণ শস্যজাত খাবার হজমশক্তি উন্নত করে।  ৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ৪. মলত্যাগের বেগ চেপে রাখবেন না: এতে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে। ৫. দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন: বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ক্ষতিকর। ৬. কুসুম গরম পানিতে সিটজ বাথ নিন: এতে ব্যথা ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। ৭. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: পায়ুপথ পরিষ্কার ও শুকনো রাখা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। হোমিও সমাধান  হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মূলনীতি হলো— “রোগ নয়, রোগীকে চিকিৎসা করা”। অর্থাৎ একই রোগে আক্রান্ত হলেও প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক গঠন, মানসিক অবস্থা, উপসর্গের ধরন এবং ওষুধের প্রতি প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই হোমিওপ্যাথিতে শুধু রোগের নাম দেখে নয়, বরং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা নির্বাচন করা হয়। পায়ুপথের রোগ—যেমন অর্শ, ফিশার, ফিস্টুলা ও অ্যাবসেস—পুরুষ, নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:-নাক্স ভোমিকা,এসকিউলাস,হ্যামামেলিস,কলিনসোনিয়া,সালফার,লাইসোপোডিয়াম,পিওনিয়া,রাটানিয়া,ক্যালকেরিয়া ফ্লোরিকা,গ্রাফাইটিস,নাইট্রিক অ্যাসিড,রাস টক্স,আর্সেনিক অ্যালবাম,ক্যালেন্ডুলা,হেপার সালফার,সিলিসিয়া,মাইরিস্টিকা,বেলাডোনা,মার্কিউরিয়াস,ক্যালকেরিয়া কার্ব,ল্যাচেসিস,ফসফরাস,সেপিয়া,থুজা,স্ট্যাফিসাগ্রিয়া,কার্বো ভেজিটাবিলিস,অ্যান্টিমোনিয়াম ক্রুডাম,পডোফাইলাম,কালি কার্বোনিকাম। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা * হোমিওপ্যাথি ওষুধ রোগের নাম দেখে নয়, উপসর্গ অনুযায়ী নির্বাচন করা হয় * একই রোগে ভিন্ন রোগীর জন্য ভিন্ন ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে * নিজে নিজে দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন করা উচিত নয় * গুরুতর ব্যথা, রক্তপাত বা ফিস্টুলা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, পায়ুপথের রোগ পুরুষ, নারী ও শিশু—সবার মধ্যেই দেখা যেতে পারে। তবে বয়স, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার কারণে ঝুঁকির ধরন ভিন্ন হয়। রক্তপাত, ব্যথা, চুলকানি, পুঁজ নির্গমন বা ফোলাভাবের মতো লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে অধিকাংশ পায়ুপথের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট