সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলের অভিযোগে প্রতিবাদ সভা, থানায় অভিযোগ!

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

​নরসিংদীতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলের অভিযোগে প্রতিবাদ সভা; থানায় অভিযোগ

ফালু মিয়া,নরসিংদী

​নরসিংদী শহরের উত্তর সাটিরপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জমি দখল, হুমকি ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। উক্ত চক্রের প্রধান বিষু চন্দ্র দাস ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে গতকাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটিতে প্রতিকার চেয়ে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ রিপন মিয়া। ​অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—উত্তর সাটিরপাড়া এলাকার নরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে বিষু চন্দ্র দাস (৬২) এবং তার দুই ছেলে রতন চন্দ্র দাস (৪২) ও মনি চন্দ্র দাস (৩৫)।

প্রতিবাদ সভায় এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ: ​গতকাল (২৬ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী মডেল থানার পেছনে উত্তর সাটিরপাড়া এলাকায় “মনি দাস, বিষু দাস ও রতন দাসের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা” শীর্ষক ব্যানারে এ সভার আয়োজন করা হয়। ​সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক ও আইনি প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। তাদের জমি দখল, চাঁদা দাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তদের ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকা আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ​প্রতিবাদ সভায় ভুক্তভোগী রিপন মিয়া, জোলেখা বেগম, মন্তু মিয়া ও রতন মিয়া বক্তব্য রাখেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

​”দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আইনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিষু দাস ও তার ছেলেরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। কথা বললেই মেলে প্রাণনাশের হুমকি।” — প্রতিবাদ সভায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ​২৩ বছরের মিথ্যা মামলা ও দীর্ঘ হয়রানি ​থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মোঃ রিপন মিয়া উল্লেখ করেন, প্রায় ২৩ বছর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়। সে সময় তারা চতুরতার সাথে রিপন মিয়াকে মামলায় জড়িয়ে দেয়। ফলে নরসিংদী মডেল থানার মামলা নং-৩৫/২০০৩ (সূত্র মামলা নং-১০(১১)০২)-এ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার হয়ে তাকে প্রায় ছয় মাস কারাবাস ভোগ করতে হয়। ​পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তরা স্বীকার করে যে মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল এবং আইনি খরচের সব টাকা তারা পরিশোধ করবে। কিন্তু দীর্ঘ ২২ বছর আদালত চত্বরে ঘুরতে ঘুরতে রিপন মিয়ার প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও অভিযুক্তরা কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। অবশেষে প্রায় দুই বছর আগে আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। ​পাওনা টাকা চাওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি ​অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২২ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে রিপন মিয়া মামলা পরিচালনায় খরচের পাওনা টাকা দাবি করতে অভিযুক্তদের বাড়ি যান। এ সময় বিষু চন্দ্র দাস ও মনি চন্দ্র দাস তার ওপর চড়াও হন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের উদ্যোগ নেন। টাকা দাবি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে সুযোগ বুঝে হত্যা করা হবে বলেও প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্তরা।

​প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ দাবি ​বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী রিপন মিয়ার পরিবার। প্রতিবাদ সভা থেকে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী একযোগে নরসিংদী জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews