
তৃণমূলের আস্থায় এ টি এম ফিরোজ মন্ডল: ভুল থেকে শিক্ষা ও আগামীর রোডম্যাপ
লিখেছেন: ম.ঠাকুর
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা—তিস্তা ও ধরলা বিধৌত এক জনপদ। এখানকার মানুষের জীবন যেমন নদীর ওপর নির্ভরশীল, তেমনি এখানকার রাজনীতিও আবর্তিত হয় নদী ভাঙন, কৃষি উন্নয়ন আর নাগরিক অধিকারকে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে রাজারহাটের রাজনৈতিক আঙিনায় যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, তিনি হলেন এ টি এম ফিরোজ মন্ডল। বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি যে লড়াই দেখিয়েছেন, তা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং রাজারহাটের মাটিতে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার ইঙ্গিত।

বিগত নির্বাচনের নির্মোহ পাঠ একজন রাজনীতিবিদের প্রকৃত পরীক্ষা হয় পরাজয়ে। বিগত নির্বাচনে এ টি এম ফিরোজ মন্ডল বিজয়ী হতে না পারলেও তিনি যে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছিলেন, তা ছিল তার পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিগত ইমেজের প্রতিফলন। তবে সেই নির্বাচনের দিকে তাকালে কিছু ঘাটতিও নজরে আসে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বড় কোনো দলীয় সুসংগঠিত চেইন না থাকায় অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোটের সঠিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়েছিল। প্রচারণার কৌশলটিও ছিল মূলত ব্যক্তির চারপাশ ঘিরে, যা ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে কিছুটা হিমশিম খেয়েছে। এই অভিজ্ঞতাগুলোই এখন ফিরোজ মন্ডলের বড় পাঠ। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, জয়ের জন্য কেবল ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি শক্তিশালী ও আস্থাশীল কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা অপরিহার্য।

নতুন দিনের সূর্যোদয় ও বর্তমান কর্মকাণ্ড নির্বাচনী ডামাডোল থেমে গেলেও ফিরোজ মন্ডল থেমে থাকেননি। তিনি এখন রাজারহাটের চরাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটি মোড়ে এক অতি পরিচিত মুখ। তার বর্তমান কর্মকাণ্ডের মূল স্তম্ভ হলো—মানুষের সংকটে সবার আগে হাজির হওয়া। নদী ভাঙন কবলিত ঘড়িয়ালডাঙ্গা বা ছিনাই ইউনিয়নের মানুষের সাথে তার বর্তমান যোগাযোগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, ক্ষমতার মসনদ নয়, বরং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই নেতৃত্বের আসল পরিচয়। সামাজিক বিচার-সালিশ থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ অবস্থান তাকে “সবার নেতা” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সমৃদ্ধ রাজারহাটের ব্লু-প্রিন্ট ও ইশতেহার আগামী দিনগুলোতে ফিরোজ মন্ডল কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার নাম। তার নির্বাচনী ইশতেহারটি রাজারহাটের মানুষের দীর্ঘদিনের না বলা দাবির এক প্রতিচ্ছবি। তার ইশতেহারে আমরা দেখি: নদী শাসনের স্থায়ী প্রতিশ্রুতি: কেবল বালুর বস্তা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক উপায়ে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্লক ও বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারি পর্যায়ে জোরালো দাবি ও বাস্তবায়ন।

কৃষি বিপ্লবের রূপরেখা: রাজারহাটের প্রধান ফসল আলু ও তামাকের জন্য সরকারি হিমাগার স্থাপন এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়ের নিশ্চয়তা।
স্মার্ট তারুণ্য ও কর্মসংস্থান: শিক্ষিত বেকারদের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আইটি ও ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা, যাতে রাজারহাটের তরুণরা গ্লোবাল মার্কেটে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
মানবিক প্রশাসন: জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা—প্রতিটি নাগরিক সেবা হবে দুর্নীতিমুক্ত ও ডিজিটাল।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা
রাজারহাটের রাজনীতিতে বর্তমানে বড় পরিবর্তন আসছে। সাধারণ ভোটাররা এখন গৎবাঁধা দলীয় কোন্দলের চেয়ে “ক্লিন ইমেজ” ও “উচ্চশিক্ষিত” নেতৃত্বের প্রতি বেশি আগ্রহী। এ টি এম ফিরোজ মন্ডল এই ধারারই একজন যোগ্য প্রতিনিধি। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, বরং “উন্নয়ন ও ঐক্য”ই তার মূল স্লোগান।
বিগত নির্বাচনের ভুলগুলো সংশোধন করে ফিরোজ মন্ডল এখন অনেক বেশি পরিপক্ক। তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে তৃণমূল পর্যায়ে যে সাংগঠনিক ভিত মজবুত করছেন, তা তাকে আগামীর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে রাখবে। রাজারহাটের মানুষ এখন এমন একজনকে খুঁজছে, যিনি কেবল বক্তৃতাই দেবেন না, বরং তিস্তার কান্নার দিনে তাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন। এ টি এম ফিরোজ মন্ডল সেই বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠছেন কি না—তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার বর্তমান কর্মতৎপরতা বলছে, রাজারহাটের আগামীর রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের সূচনা হতে যাচ্ছে।