
১৯৯১ সাল থেকে শেখ হাসিনার একচেটিয়া আসন ছিলো এটি। এবার এই আসনের ফ্রন্ট লাইনার হলেন বিএনপির এসএম জিলানি। জামায়াত জোটের প্রার্থীর নাম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আজিজ মক্কী।
এসএম জিলানী ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিপক্ষে নির্বাচন করে ৪৪৫১ ভোট পান। হাসিনার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিলো ১,৫৮,৯৫৮। তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে গোপালগঞ্জ-৩ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলার বেশ কিছু কারণ আছে। প্রথমত, গোপালগঞ্জ-২ প্রায় শুরু থেকেই শেখ সেলিমের দখলে। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৮ বার এমপি হয়েছেন শেখ সেলিম। গোপালগঞ্জ-১ আসনে কর্ণেল ফারুক খান এমপি হয়ে আসছেন ১৯৯৬ সাল থেকে।অন্যদিকে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে শেখ হাসিনার আগেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। শেখ হাসিনার আগে ওই আসনে ১৯৮৬ সালে এমপি হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কাজী ফিরোজ রশীদ ১৯৯৬’র নির্বাচনে সর্বসাকুল্যে ভোট পান ৪৫৩টি। হাসিনা পান ১,০২,৬৮৯ ভোট।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের নিয়মিত প্রার্থী ছিলেন সাংবাদিক নির্মল সেন, প্রয়াত রাজনীতিবিদ শেখ শওকত হোসেন নীলুসহ আরো অনেক গুণী রাজনীতিবিদ। তবে এদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বরাবরই ছিলো নগণ্য। ১৯৯১’র নির্বাচনের নীলুর সর্বোচ ভোট ছিলো ১৫২৭। নির্মল সেনের ১০১৯। হাসিনার পলায়নের পর গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব বদল হয়েছে বলা যায়না। বিএনপির প্রার্থী এসএম জিলানী এখনো নাকি বুলেটপ্রুপ জ্যাকেট পড়ে ঘুরে বেড়ান। গত ১৭ বছর এক রকম পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হলে সম্ভবত প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির বাইরের কেউ এমপি নির্বাচিত হবে। এজন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।