1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কসমস ফুলের সৌন্দর্যে মুখরিত এলাকা, বাড়ছে দর্শনার্থীর আগ্রহ সাটুরিয়ায় ৮ নং ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ( হ্যাঁ/না) ভোটের লিফলেট বিতরণ! ট্রাক্টরের হালের ফাঁলে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বড়লেখায় কৃষি জমির মাটি কর্তনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে ঝলমলে সকাল, রাতভর শীতের তাণ্ডব নোয়াখালীতে ২ সন্তানের জনককে পিটিয়ে হত্যা, ডাকাত আখ্যা দিয়ে মিষ্টি বিতরণ নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপ-প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাইবান্ধায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গণপিটুনি দিয়ে ৩ ডাকাতকে পুলিশে সোপর্দ রংপুরে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়াইয়ে অটো ছিনতাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় উত্থান

ইরানে বিক্ষোভের ‘উসকানিদাতাদের’ কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ খামেনির

ভোরের আওয়াজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ‘উসকানিদাতাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে’। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালে তারা হাজারো মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, যে বিক্ষোভগুলো কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থার ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভ গত তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে দমন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ’র বরাত দিয়ে প্যারিস থেকে এএফপি জানিয়েছে, এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে স্কুল পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাও এক সপ্তাহ পর নেওয়া হবে।কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা যেসব বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ বলে আখ্যা দিয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপন্থী গণমাধ্যমগুলো হাজারো গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে খামেনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ইরানি জাতিকে অবশ্যই উসকানিদাতাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে, যেমন তারা আগেও উসকানি ভেস্তে দিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধে নিতে চাই না, কিন্তু দেশের ভেকরের অপরাধীদের ছাড় দেব না।’ তিনি যোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধীরা আরও ভয়ংকর।’ খামেনি আরও বলেন, ‘এজেন্টরা কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। তারা চরম অমানবিকভাবে, নির্মম বর্বরতায় বেশ কিছু মানুষকে হত্যা করেছে।’ এটি ছিল তার প্রথম বক্তব্য, যেখানে তিনি হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জন্য চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে বলেছে, তারা অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী অভিযানে’ রূপ দিতে উসকানি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। শনিবার খামেনি ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যে প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার জন্য তিনি দায়ী।

তিনি বলেন, ‘এটি ছিল একটি আমেরিকান ষড়যন্ত্র।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে গিলে ফেলা, ইরানকে আবার সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের অধীনস্থ করা।’ ওয়াশিংটন আপাতত পিছু হটলেও ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক বিকল্প তিনি বাতিল করেননি এবং বিক্ষোভকারীদের কেউ মৃত্যুদণ্ড পাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নজর রাখছেন। ট্রাম্প শুক্রবার তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ইরান শত শত বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইরানি শাসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ধন্যবাদ!’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তেহরানের কৌঁসুলি আলি সালেহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ‘সব সময়ই অনেক বাজে কথা বলেন’। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘দৃঢ়, নিবৃত্তিমূলক ও দ্রুত’, এবং বহু মামলায় অভিযোগ গঠন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়ে থাকতে পারে। তবে তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে উদ্ধৃত করে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেন, প্রায় ৩ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। শনিবার ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘বিক্ষোভ ও ভাঙচুরে জড়িত বাহাই গুপ্তচর সম্প্রদায়ের ৩২ সদস্যের একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন প্রধান সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৩ জনকে তলব করা হয়েছে,’ তাসনিম জানায়। দমন অভিযানে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ কঠোর ইন্টারনেট বিধিনিষেধের কারণে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের পর ইরান ছেড়ে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা বিক্ষোভ চলাকালে গুলির মুখে পড়েন এবং অসংখ্য গুলির শব্দ শোনেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে শুধু প্রথম নাম প্রকাশ করা কিয়ারাশ জানান, ১০ জানুয়ারি বিক্ষোভ চলাকালে তার ওপর গুলি চালানো হয় এবং তিনি তেহরানের একটি মর্গে হাজার হাজার মরদেহ দেখেছেন। জার্মানি থেকে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমি রক্ত দেখেছিৃ হাজার হাজার মানুষ এবং হাজার হাজার মৃতদেহ—যারা তাদের অধিকার চাইছিল।’

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীকে তারা যাচাই করতে পেরেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।অন্য হিসাবগুলোতে নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, এমনকি ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে আইএইচআর জানিয়েছে। বিদেশভিত্তিক বিরোধী চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস শনিবার জানিয়েছে, ‘ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ কার্যত স্থবিরই রয়েছে। আজ কিছু সময়ের জন্য সামান্য সংযোগ ফিরলেও নতুন নৃশংসতার খবর আসার পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।’ খবরে বলা হয়, ইরানে মানুষ আবার দেশের ভেতরে ও বাইরে এসএমএস পাঠাতে পারলেও বিদেশ থেকে পাঠানো বার্তা অনেক সময় গ্রহণ করতে পারছে না।মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভের কোনো যাচাইযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কিছু এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা উপস্থিতি দেখা গেছে।

তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলে রেজা পাহলভি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবার ও রোববার সন্ধ্যায় আবার বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানান।

 

সূত্র: অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট