
দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘টাউন খাল’ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনরুজ্জীবিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টায় শহরের থানাব্রিজ এলাকায় এই খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।
ব্রিটিশ শাসনামলে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি খনন করা হয়েছিল। শহরের টানবাজার থেকে শুরু হয়ে গোকর্ণ ঘাটে গিয়ে শেষ হওয়া এই খালটি তিতাস নদীর দুই প্রান্তকে যুক্ত করেছে। তবে গত কয়েক দশকে ময়লা-আবর্জনা এবং দুই পাড়ে প্রভাবশালী ও স্থানীয়দের অবৈধ দখলের কারণে খালটি সরু নালায় পরিণত হয়েছিল। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতো।
খনন কাজের উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “এই খালটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণ। এটিকে বাঁচাতে হলে শুধু খনন করলেই হবে না, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি থেকে যেন কোনোভাবেই ময়লা খালে না ফেলা হয়, সেজন্য আমরা পৌরসভার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে বর্জ্য সংগ্রহের বিশেষ ব্যবস্থা করছি।”
তিনি আরও জানান, খনন কাজ শেষ হওয়ার পর খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সেখানে জনসাধারণের চলাচলের জন্য দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে এবং বসার জায়গা নির্মাণ করা হবে, যা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে এই খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, খনন কাজ শেষ হলে তিতাস নদীর সাথে খালের পানি প্রবাহ পুনরায় স্থাপিত হবে, যা শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেবে।
দীর্ঘদিন পর খালের কাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহরবাসী। স্থানীয়রা জানান, এই খালটি খনন করা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তবে শুধু খনন নয়, খনন পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ এবং দখলদারদের হাত থেকে খালটিকে স্থায়ীভাবে মুক্ত রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।