
দেশের অন্যতম গ্যাস উৎপাদনকারী জেলা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভোগা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী এবার রাজপথে নেমেছেন। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলা শহরের কাউতলি এলাকায় ‘সর্বস্তরের জনগণের’ ব্যানারে আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। এতে প্রায় এক হাজার ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশ নেন এবং ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশের বৃহত্তম তিতাস গ্যাস ফিল্ড অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয়রা গ্যাসের জন্য হাহাকার করছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও অনেক এলাকায় সারাদিনে এক ঘণ্টার জন্যও গ্যাস পাওয়া যায় না। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকে এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ বাড়ছে। গৃহিণীরা অভিযোগ করেন, শিশুদের নাস্তা ও রোগীদের খাবার তৈরি করতে তাদের গভীর রাত বা ভোরে রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে। বক্তাদের দাবি, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সবার আগে জেলাবাসীর অধিকার।”
বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গ্রাহকদের দাবি শুনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন কুমার দে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত মোহাম্মদ ইশতিয়াক ভূঁইয়া।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারা ঘোষণা দেন, আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসন, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং গ্রাহক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তারা।
প্রশাসনের এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি মঙ্গলবারের বৈঠকে সন্তোষজনক ও স্থায়ী কোনো সমাধান না আসে, তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বাখরাবাদ গ্যাস অফিস ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেখ হাফিজ, এবিএম মুছা, মো. সাবের হোসেন, আতিকুর রহমান আপেল, মামুন আরিফ, শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী, মো. সোহেল রানা ভূঁইয়া, হাফেজ ইসহাক আল মামুন, ইমরান আহমেদ রনি, শাহাদাত হোসেন, শিব্বির আহমেদ ভূঁইয়া, নাছির আহমেদ, জালাল আহমেদ, এমরান আহমেদ রনি ও পলি আক্তারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।