
সুবর্ণচরে শীতের দাপড়ে জবুথবু জনপথ নিম্ম আয়ের মানুষ। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে প্রচুর দক্ষিণের এ উপজেলায়। শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকে বাইরে কম আসতে দেখা গেছে। কমেছে নিম্ম আয়ের মানুষের দৈনিক আয়। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে । বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু,বয়স্ক ও নিম্ম আয়ের মানুষ গুলো। হাড়কাঁপানো কনকনে এমন শীতে বাহিরে কাজে যেতে পারছেনা কর্মজীবী মানুষ। সুবর্ণচরে গত ৭/৮ দিন ধরে শীতের তীব্রতায় অনেক শ্রমজীবীকে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।
ঠিক এমন সময়ে সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজেই ছুটে যাচ্ছেন দরিদ্রদের মাঝে কম্বল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকিব ওসমান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশাসনের এই কর্মকর্তা রাতের আঁধার, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা আর দুর্গম চর পেরিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দেখা গেছে কম্বল। গরিব, দুস্থ ও শীতকাতর মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে তিনি শুধু শীত নিবারণই নয়, মানুষের মনে হাসি ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়।
প্রশাসনের এমন সহায়তায় স্বস্তি এনে দিয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় অবস্থানরত এতিম শিশুদের মাঝেও কম্বল পৌছে দেওয়া হয়, যাতে শীতের কষ্ট তাদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। চরবাটা ইউনিয়নের আচুমকা কলোনীর জোসনা আক্তার, রেখা, অজিফা খাতুন, ছানা উল্ল্যাহ এবং বেলায়েত এ প্রতিবেদকে বলেন, রাতে দেখি ইউএনও স্যার আমাদের কলোনীর ঘরে ঘরে কম্বল দিতেছে।
আমরা স্যারের হাত থেকে কম্বল পেয়ে অনেক খুঁশি হয়েছি। প্রতি বছর শুনি সরকারি কম্বল আসে, কে পাই আমরা জানি না তা। এবার স্যার সঠিক গরিব মানুষদের কম্বল দিলেন। আমরা মন খুলে দোয়া করি স্যারের জন্যে। এ সময় বড় প্রয়োজন ছিলো শীতবস্ত্র, অভাবপূরণ হলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান জানান, এ শীতে গরিব ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে সরকারি সহায়তার কম্বল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে দিতে পারছি, এটা আমার জন্যও ভালো লাগার বিষয়। আমরা একেক দিন একেক এলাকায় গিয়ে কম্বল বিতরণ করছি, যাতে প্রকৃতভাবে অসহায় মানুষগুলোর শীত নিবারণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের প্রথম ধাপে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই টিম ওয়ার্ক প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। যেহেতু শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে আমরা বরাদ্দ সাপেক্ষে বিতরণ কার্যক্রম সামনের দিকেও অব্যাহত রাখবো।
এ সময় ইউএনও’র সাথে বিতরণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসার মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুরুন নবী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের স্টাফ সহ প্রমুখ।