বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
​সমাজে বিষফোঁড়া ‘কিশোর গ্যাং : স্পট, অপরাধের ধরন, আইনি পদক্ষেপ ও উত্তরণের উপায়! গাজীপুরে বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বন বিভাগ’প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন দ্বীনি চর্চা ও আলেমদের কল্যাণে অভূতপূর্ব অগ্রগতি-মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড! সিলেটে এ বছর ৬৩৬ স্থানে দুর্গাপূজা হচ্ছে গাছায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি, রামদাসহ যুবক আটক চাটখিলে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা চালকের মৃত্যু বর্ধিত পরিসরে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুলার  আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন মাঠের অভাব ও প্রযুক্তির প্রভাব: দিনে দিনে আড়ালে চলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু

দ্বীনি চর্চা ও আলেমদের কল্যাণে অভূতপূর্ব অগ্রগতি-মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬



বিশেষ সাক্ষাৎকার

বর্তমান সরকারের আমলে দ্বীনি চর্চা ও আলেমদের কল্যাণে অভূতপূর্ব অগ্রগতি: কেরানীগঞ্জে মডেল মসজিদ পরিদর্শনে গভর্নর মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ

উপস্থাপনা :

ইসলামী চিন্তাধারা এবং আধুনিক প্রশাসনিক সংস্কারের এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে বর্তমান সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে। দ্বীনি শিক্ষা, উম্মাহর ঐক্য এবং আলেম সমাজের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন গভর্নিং বোর্ডের সম্মানীত সদস্য (গভর্নর) মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয় পরিদর্শনকালে দ্বীনি চর্চা, আলেমদের কল্যাণ, ৭ দফা দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর মুখোমুখি হন তিনি।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় পত্রিকা দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর সহকারী সম্পাদক এ আর জাফরী।

গভর্নর মুফতী বিএম শরিফুল্লাহএর  সংক্ষিপ্ত পরিচিত :

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, ফকিহ, সমাজ সংস্কারক এবং সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব। ইসলামী শরিয়াহ ও ফেকাহ শাস্ত্রে সুগভীর পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার এবং আলেমদের অধিকার আদায়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্যাবলি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ইসলামী নীতিশাস্ত্রের একজন প্রজ্ঞাবান বিশ্লেষক। বর্তমানে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য (গভর্নর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও দূরদর্শী চিন্তাধারার ফলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের স্থবিরতা দূর হয়ে এক নতুন গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে।

সাক্ষাৎকার :

এ আর জাফরী: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম গভর্নর মহোদয়, দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আপনি সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বর্তমান সরকারের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই অগ্রযাত্রাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনাকে এবং দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর পাঠকদের আন্তরিক মোবারকবাদ। দেখুন, বর্তমান সরকারের সময় দ্বীনি চর্চা ও আলেমদের সার্বিক কল্যাণে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিটি স্তরে প্রত্যক্ষ করছি। কেরানীগঞ্জের মডেল মসজিদ পরিদর্শনকালে আমি দেখেছি, সাধারণ মানুষের মাঝে কী পরিমাণ উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। এই মডেল মসজিদগুলো কেবল ইবাদতের স্থান নয়, বরং দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামিক সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

এ আর জাফরী: আলেম সমাজ ও ইমাম-খতিবদের অধিকার আদায়ে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং ৭ দফা দাবির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন!

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে কওমি ও সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরামের অভূতপূর্ব ঐক্য ঘটেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সহ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, নুরুল হক নূর, মজিবুর রহমান মঞ্জু, ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা খলিল আহমদ কাসেমী, মাওলানা আবদুল হামিদ মধুপুর, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, সৈয়দ রেজাউল করিম চরমোনাই এবং মুফতি মামুনুল হক সহ দেশের শীর্ষ আলেমগণ।

উক্ত সম্মেলন চলাকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০টা পর্যন্ত টানা উপস্থিত থেকে আমাদের বক্তব্য শুনেন এবং দিকনির্দেশনা দেন। সেখানেই সর্বসম্মতভাবে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ ঘোষিত ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়।

সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ ঘোষিত ৭ দফা দাবি :

* রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী শরীয়া: রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

* জনকল্যাণ ও প্রশাসনিক নীতিতে ইমামদের সম্পৃক্ততা: রাষ্ট্রের জনকল্যাণ ও সেবামূলক কার্যক্রমে ইমাম-খতিবদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি, গ্রাম আদালত, দুর্যোগ প্রতিরোধ এবং ইউনিয়নভিত্তিক সেবামূলক কার্যক্রমে তাঁদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

 * সার্ভিস রুলস প্রণয়ন: দেশের সকল মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস রুলস প্রণয়ন করতে হবে এবং মসজিদ কমিটিতে তাঁদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

* ইউটিলিটি বিল মওকুফ: মসজিদ ও মাদ্রাসার বিদ্যুৎ বিল এবং পানি বিল সরকারিভাবে মওকুফ করতে হবে।

* দাওরায়ে হাদীসের সনদের স্বীকৃতি ও নিয়োগ: দাওরায়ে হাদীস সনদপ্রাপ্ত আলেমদের সরকারি মসজিদের ইমাম-খতিব, স্কুল-কলেজের ধর্মীয় শিক্ষক এবং কাজী পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে। এছাড়া জাতীয় শিক্ষা কমিশন ও এনসিটিবি (NCTB)-এর পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কমিটিতে বিশেষজ্ঞ আলেম ও ইমাম-খতিবদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

* ওয়াকফ আইনের সংস্কার: ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার রোধে বিশেষজ্ঞ মুফতী ও ইমাম-খতিবদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে প্রচলিত ওয়াকফ প্রশাসন আইনকে ইসলামী শরীয়ার আলোকে যুগোপযোগী করতে হবে।

* আলেমদের আইনি সুরক্ষা: উপযুক্ত প্রমাণ ও সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন বা কোনো আলেমকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না।

এ আর জাফরী: এই ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: আলহামদুলিল্লাহ, ৭ দফা দাবির ইতিবাচক বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই দাবিগুলোর প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন:

 * ইমামদের ভাতা: সারা দেশের মসজিদের ইমামদের সরকারি ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 * কাজী পদে নিয়োগ: কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীস সনদের ভিত্তিতে কাজী নিয়োগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 * আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব: জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধি রাখা শুরু হয়েছে।

 * ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: স্কুল-কলেজগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে কওমি সনদধারী আলেমদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

এছাড়া আলেমদের মূল্যায়ন করতে এবং কাজগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে কওমি ঘরানার একজন বিজ্ঞ আলেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং গভর্নিং বোর্ডে ৫ জন আলেমকে গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

এ আর জাফরী: আলেমদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে কী কাজ হচ্ছে?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে নতুন করে পুনর্গঠন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও দুস্থ আলেমদের জন্য সরকারি ভাতা ও সুদমুক্ত ঋণের পরিধি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা বৈষম্য ছাড়া যেন প্রকৃত অভাবগ্রস্ত ও সেবাধর্মী আলেমরা এই সুবিধা পান, তা আমরা কঠোরভাবে নিশ্চিত করছি।

এ আর জাফরী: ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ (মউশিক)-এর আলেম ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: মউশিক প্রকল্প তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় এই কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং যুগোপযোগী ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করার কাজ চলছে, যা খুব অল্প সময়ে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। আমরা নিয়োজিত শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের নিয়মিত সম্মানী নিশ্চিত করেছি এবং বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতা দূর করেছি। তাঁদের চাকরি ও ভাতা স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়াও গতিশীল করা হয়েছে।

এ আর জাফরী: ‘মুসলিম উম্মাহর ঐক্য’ প্রতিষ্ঠায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কী ভূমিকা রাখছে?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: ইসলামের মৌলিক বিষয়ে আলেম সমাজের ঐক্য অপরিহার্য। ছোটখাটো ফিকহি মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে যাতে সমাজে বিভেদ তৈরি না হয়, সে জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন আলেমদের মতামত বিনিময়ের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। আমরা বিভিন্ন চিন্তাধারার হক্কানী আলেমদের একসাথে বসিয়ে নিয়মিত সংলাপ ও সেমিনারের আয়োজন করছি।

এ আর জাফরী: সরকারি দপ্তরে আলেমদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে চিন্তা কেমন?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: আলেমদের সুশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিশেষ করে গবেষণা, নৈতিক শিক্ষা, প্রশাসনিক পরামর্শক এবং সমাজসেবামূলক পদগুলোতে আলেমদের সম্পৃক্ত করার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। যোগ্যতা অনুযায়ী যেন তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূভাবে এগোচ্ছে।

এ আর জাফরী: হজ্জ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কী পরিবর্তন এসেছে?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: হজ্জ ব্যবস্থাপনায় কোনো দুর্নীতি বা গাফলতি বরদাশত করা হচ্ছে না। মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্র সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও সহজ আবাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হাজিরা যেন সর্বনিম্ন খরচে সর্বোচ্চ মানসম্মত সেবা পান, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

এ আর জাফরী: আলেম সমাজের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও রূপক স্পষ্টতায় বলতে চাই, আলেম সমাজের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নম্রতা, ভদ্রতা, শালীনতা ও আন্তরিকতা এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অতীতে কোনো দেশের প্রধান আলেমদের সাথে এমন সম্মান ও মায়াপূর্ণ আচরণ করেননি। আমরা তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করি।

এ আর জাফরী: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের অফিসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে কী ভূমিকা নিচ্ছেন?

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: কেরানীগঞ্জের মতো মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে কোনো সাধারণ আলেম এসে যেন হয়রানির শিকার না হন, সে নির্দেশনা স্পষ্ট। ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি বন্ধ করে শতভাগ ডিজিটালাইজেশন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।

এ আর জাফরী: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে দৈনিক ভোরের আওয়াজ-এর পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ।

মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ: আপনাকে এবং দৈনিক ভোরের আওয়াজ পরিবারকেও আন্তরিক ধন্যবাদ। আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীনের সকল খিদমত কবুল করুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews