বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
​সমাজে বিষফোঁড়া ‘কিশোর গ্যাং : স্পট, অপরাধের ধরন, আইনি পদক্ষেপ ও উত্তরণের উপায়! গাজীপুরে বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বন বিভাগ’প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন দ্বীনি চর্চা ও আলেমদের কল্যাণে অভূতপূর্ব অগ্রগতি-মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড! সিলেটে এ বছর ৬৩৬ স্থানে দুর্গাপূজা হচ্ছে গাছায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি, রামদাসহ যুবক আটক চাটখিলে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা চালকের মৃত্যু বর্ধিত পরিসরে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুলার  আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন মাঠের অভাব ও প্রযুক্তির প্রভাব: দিনে দিনে আড়ালে চলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু

​সমাজে বিষফোঁড়া ‘কিশোর গ্যাং : স্পট, অপরাধের ধরন, আইনি পদক্ষেপ ও উত্তরণের উপায়!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬



​সমাজে বিষফোঁড়া ‘কিশোর গ্যাং : স্পট, অপরাধের ধরন, আইনি পদক্ষেপ ও উত্তরণের উপায়!

         

মো: মোতালেব হোসেন 

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক ও সামাজিক নিরাপত্তার উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজির মতো মারাত্মক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা।

​দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কিশোর অপরাধ ও সংঘবদ্ধ গ্যাং কালচার বর্তমানে এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পাড়া-মহল্লার তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়-প্রশ্রয়, মাদকের বিস্তার এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে কিশোরদের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে নৃশংস সব অপরাধে।

​১. কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ ও অঞ্চলসমূহ

​বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরের পাড়া-মহল্লায় শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।

​ঢাকা মহানগরী (মোহাম্মদপুর, আদাবর, হাজারীবাগ, উত্তরা, মিরপুর, ডেমরা): আধিপত্য বিস্তার, প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া, পথচারীদের ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে কোপানো, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

​কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগ: সম্প্রতি কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নামের এক শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, যার পেছনে একাধিক কিশোর গ্যাং জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে টিকটক ভিডিও বানানোর নামে সড়ক আটকে অস্ত্রের মহড়া ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

​অন্যান্য জেলা (লক্ষ্মীপুর, গাজীপুর, সাভার): মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে আড্ডা দিয়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করা, মারামারি, জুয়া ও মাদক সেবনের সাথে এরা যুক্ত।

​২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ

​সম্প্রতি কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবং দেশব্যাপী কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে:

​গণগ্রেপ্তার ও বিশেষ অভিযান: কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে পরিচালিত যৌথ অভিযানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আড়াই হাজারেরও বেশি কিশোর ও বখাটে তরুণকে আটক করা হয়েছে।

​যাচাই-বাছাই ও মুচলেকা: আটকদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ মেলেনি বা প্রাথমিক জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে ‘মুচলেকা’ নিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

​মামলা ও ব্যবস্থা: সুনির্দিষ্ট মামলা বা অস্ত্র ও মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

​৩. আদালতে বিচার ও শাস্তি প্রক্রিয়ার আইনি বাস্তবতা

​বাংলাদেশের ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী হিসেবে বিচার করা যায় না।

​কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণ: শিশু আদালতের মাধ্যমে তাদের সাধারণ কারাগারে না পাঠিয়ে যশোর, গাজীপুরের (টঙ্গী ও কোণাবাড়ী) ‘কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র’-এ নির্দিষ্ট মেয়াদে পুনর্বাসনের জন্য পাঠানো হয়।

​আইনি সীমাবদ্ধতা: প্রচলিত আইনে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের আটকাদেশ বা সংশোধনাগারে রাখার বিধান রয়েছে।

​সহজে জামিন পাওয়া: শাস্তির মাত্রা লঘু হওয়ায় কিংবা শিশু আইনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অপরাধী কিশোরেরা জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

​৪. কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রস্তাবিত পদক্ষেপসমূহ

​বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল পুলিশি অভিযান চালিয়ে বা গ্রেপ্তার করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বহুমুখী পদক্ষেপ:

১। ​গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ ও মদদদাতাদের গ্রেপ্তার: কিশোরদের পেছনে যেসব রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (‘বড় ভাই’) অস্ত্র ও অর্থের জোগান দেয়, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

২। ​পারিবারিক ও সামাজিক তদারকি: সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুসঙ্গ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারে অভিভাবকদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

৩। ​খেলার মাঠ ও বিনোদন বৃদ্ধি: প্রতিটি মহল্লায় খেলাধুলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং পাঠাগার আন্দোলন জোরদার করতে হবে, যাতে তরুণরা গঠনমূলক কাজে সময় ব্যয় করে।

৪। ​মাদকের উৎস বন্ধ করা: কিশোর গ্যাংগুলোর বড় চালিকাশক্তি হলো মাদক। এলাকাভিত্তিক মাদকের সিন্ডিকেট ও সহজলভ্যতা যেকোনো মূল্যে উপড়ে ফেলতে হবে।

৫।​শিশু আইন সংস্কার: যেসব কিশোর নৃশংস অপরাধে (যেমন: খুন বা গণধর্ষণ) জড়ায়, তাদের বয়সের বিষয়টি বিবেচনা না করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির আধুনিক আইনি কাঠামো গঠন করা জরুরি।

৬। সকল ধর্মের মধ্যে রয়েছে মানবিক চরিত্রের উত্তম গুণাবলী, তাই শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ পরিপূর্ণভাবে গঠন করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় শিক্ষা  তাদের মধ্যে জাগ্রত করা প্রয়োজন বলে অনেক ইসলামিক কলার্স পরামর্শ দিয়েছেন  দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews